1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৪:১৪ অপরাহ্ন

আতা মোল্লার কাছে স্ত্রীকে নিয়ে যেতেন হিফজুর : এসপি

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১
  • ৩১১ বার পঠিত

সিলেটের গোয়াইনঘাটে একই পরিবারের তিন জনের গলা কাটা মরদেশ উদ্ধারের ঘটনার আগের দিন গৃহকর্তা হিফজুর তার স্ত্রীকে নিয়ে সাববাজার এলাকায় আতা নামের এক মোল্লার কাছে যান। এমনকি সন্ধ্যা থেকে ঘটনার ভোর রাত পর্যন্ত যাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেন সকল কিছু হত্যার সাথে প্রাসঙ্গিক বলে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষনে মনে করি হিফজুরই তার স্ত্রী সন্তানকে হত্যা করেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে হিফজুর জানিয়েছে, স্ত্রীর পেছনে অনেক টাকা ক্ষরচ হচ্ছে। বার বার সে তার স্ত্রীকে আতা মোল্লার কাছে নিয়ে যেতে হতো। এতে তার অনেক টাকা খরচ হতো।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনার আগের দিন দুপুরবেলায় সিলেটের সাহেব বাজারের আতা নামের এক মোল্লার কাছে নিয়ে যান হফজুর। হিফজুর আতা মোল্লার মুরিদ ছিলেন। দীর্ঘদিন থেকে তিনি ওই মোল্লার কাছে যাওয়া আসা করতেন। সেখান থেকে তিনি বাড়ি ফিরেন। হিফজুর রহমান পান ব্যবসা করতেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় পানের টাকা সংগ্রহ করার জন্য তিনি বাজারে যেতেন। কিন্তু ওইদিন তিনি আর বাজারে যাননি। এমনকি ঘটনার ভোর রাতে তিনি তিন জন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেন ফোনে। এর মধ্যে একজন অটোরিকশা চালক। তার কাছে ফোন করে হিফজুর অসুস্থতার কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। সব মিলিয়েই আমাদের মনে হচ্ছে সেই হত্যা করে থাকতে পারে তার স্ত্রি সন্তানকে।

জেলা পুলিশ সুপার বলেন, ‘চিকিৎসাধীন হিফজুর রহমান বর্তমানে সুস্থ আছেন। রোববার চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দিবেন। চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দিলে রোববার আদালতে তোলা হবে। পাশাপাশি মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করবে।’
একমাত্র হিফজুরকেই স্ত্রী ও সন্তান হত্যার ঘটনায় সন্দেহের কয়েকটি কারণ উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রথমে হিফজুরের মামাদের সাথে জায়গা সম্পত্তিজনিত কারণকে সন্দেহ করা হলেও এখন আমাদের তা মনে হচ্ছে না। বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষ ণ করে আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাসী এ ঘটনা হিফজুরই ঘটিয়ে থাকতে পারে।’

পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘হিফজুরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে কিছু বলতে চায় না। তবে একবার বলেছে রাতে আমি অনেক মাছ কেটেছি। আমার ঘরে অনেক মাছ এসেছিলো। এখন তার এ কথা ভণিতা নাকি আসলেই তার মানসিক কোন সমস্যা এটি দেখার বিষয়। কারণ এলাকায় একটি জনশ্রুতি আছে প্রতি বছর একটা সময় হিফজুরের মাথা গরম হয়ে যায়। তখন সে একজন কথিত পিরের কাছে গিয়ে ঝাড়ফুঁক গ্রহণ করে। এখন আমরা এ বিষয়টিও চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেছি, তবে চিকিৎসকরা এখনো এরকম কিছু পাননি। এখন সে সুস্থ। রোববার তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। পরে আমরা তাকে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে। তবে তাকে মানসিক বিশেষজ্ঞ দিয়েও চিকিৎসা করানো হবে।’

এর আগে বুধবার গোয়াইনঘাট উপজেলার বিন্নাকান্দি গ্রামে হিফজুর রহমানের স্ত্রী আলিমা বেগম (৩০), তার ছেলে মিজান (১০) ও মেয়ে তানিশার (৩) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত নারীর বাবা আয়ুব আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় শনিবার হিফজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews