1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:১৮ অপরাহ্ন

ইউপি নির্বাচন: নৌকার গলার কাঁটা বিদ্রোহী প্রার্থীরা

  • আপডেট সময় : রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪১ বার পঠিত

ডেস্কঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইউপি নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেয়েও স্বস্তিতে নেই আওয়ামী লীগের (নৌকা) চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে তাদের। মনোনয়নবঞ্চিত এসব বিদ্রোহী প্রার্থী নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

এলাকায় এসব বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাপক জনসমর্থন থাকায় মাঠ ছাড়তে রাজি নন তারা। আর তাতে নৌকার প্রার্থীরা অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়বেন বলে ধারণা স্থানীয়দের।

এসব এলাকার নির্বাচনী মাঠ ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে বিদ্রোহী এসব প্রার্থী ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ।

এদিকে শনিবার থেকে ১০ ইউপিতে নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়লাভ করতে জেলা ও উপজেলার নেতারা অন্য সব প্রার্থীকে নিয়ে সভা-সমাবেশ শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোট। এতে দুই ইউনিয়নে নতুন মুখসহ ১০ ইউনিয়নেই নৌকার মনোনয়ন পান এক নারীসহ আট ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানরা।

কিন্তু পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরাজি আবারও কেন্দ্রীয় নেতাদের ম্যানেজ করে নৌকার মনোনয়ন পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সভাপতি পদত্যাগ করে আবদুর রশিদ মোল্লা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে-চরআবাবিল ইউনিয়নে তৃতীয়বারের মতো নৌকার মনোনয়ন পান বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ উল্লাহ বিএসসি। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক জাফর হোসেন দুলাল হাওলাদার। এই দুই নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোট করছেন। দুজনই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মিছিল-মিটিং চালিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট চাচ্ছেন। এদের জনসমর্থনও রয়েছে এলাকাজুড়ে।

রায়পুর ইউনিয়নে নৌকার টিকিট পেয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান চেয়ারম্যান সফিউল আযম চৌধুরী সুমন। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম এবং ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জামাল চৌধুরী। তারাও এলাকার জনপ্রিয় নেতা হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

চরআবাবিল ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ উল্যা বলেন, গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল হাওলাদারকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল। সে এখন ইউপি নির্বাচনেও নৌকার বিরুদ্ধে তথা আমার বিরুদ্ধে লড়ছেন। তবে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

একই এলাকার বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল হাওলাদার বলেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। তাই ভোটারদের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি।

একই কথা বলেন দক্ষিণ চরআবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন এবং চরবংশি ইউপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মোল্লা।

দক্ষিণ চরবংশি ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজি বলেন, দল আমাকে কখনই অব্যাহতি দেয়নি। নৌকা প্রতীক দিয়ে পাঠিয়েছেন। নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করা মানে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তাই দল এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা রাখি।

একই বক্তব্য দেন রায়পুর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী মো. সফিউল আযম চৌধুরী সুমন।

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্রোহী প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম বলেন, আমি নৌকার বিরুদ্ধে নই। বিগত নির্বাচনে তিনবার নৌকা প্রতীক চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুরোধে তখন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। তাই এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট করায় দলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অনুরোধে আমি প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি।

রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র হাজি ইসমাইল খোকন বলেন, কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না। সবাই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নৌকার প্রার্থীর ভোট করবে। যারা নৌকার বিরুদ্ধে থাকবে, তাদের দল থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হবে।

উল্লেখ্য, রায়পুর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র কিনেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের ৫২ প্রার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews