1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

কামারদের ব্যস্ততা বাড়লেও নেই বিক্রি

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১
  • ১৩২ বার পঠিত

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় কামাররা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটিসহ নানাবিধ সরঞ্জাম। তবে এসব সরঞ্জাম তৈরি করলেও দেখা নেই ক্রেতার। হচ্ছে না কেনাবেচাও।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) নবীগঞ্জ শহরের শেরপুর রোড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পশু কোরবানি ও মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। অনেকেই পশু কোরবানির জন্য নতুন করে দা, ছুরি, চাপাতি তৈরি করছেন। কেউ কেউ পুরনো সরঞ্জামে শান বা লবণ-পানি দেওয়ার কাজ করছেন।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এখনো পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়নি। আগে মানুষ গরু কিনবে পরে ছুরি-চাপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কিনবে। কবে থেকে পুরোদমে বেচাকেনা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, ঈদের ২/৩দিন আগে থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে বলে আমরা আশাবাদী। তবে এবছর অন্যান্য বছরের চেয়ে বেচাকেনা ভালো হবে না বলেন তারা। ঈদের বেচাকেনা এখনো শুরু হয়নি। আরও পরে শুরু হবে। তবে আমরা এখন বানিয়ে রাখতেছি পরে শুধু বিক্রি করব। সারা বছর কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদের এ সময়টা বারবারই ব্যস্ত থাকতে হয় আমাদের।কামাররা বলছেন, এ পেশায় অধিক শ্রম, জীবিকা নির্বাহে কষ্ট হলেও শুধু বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশাটিকে আমরা এখনও আঁকড়ে ধরে আছি। বিভিন্ন সময় এসবের চাহিদা কম থাকলেও কোরবানির পশুর জন্য বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সকলেই আমরা ব্যস্ত সময় পাড় করছি। এই ঈদ মৌসুম ছাড়াও সারা বছর কাস্তে, কুড়ালও তৈরি করে সময় কাটে আমাদের।

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলীম জানান, আমি প্রতি বছরই কোরবানির ঈদে গরু কোরবানি দেই। এবারও কোরবানি দেব। কিন্তু করোনার জন্য এখনো গরু দেখতে যেতে পারিনি। ঈদের আগের দিন গরু কিনবো। কয়েক দিন পর থেকে কামারের দোকানে ভিড় বাড়বে। তাই আগে থেকেই ছুরি ও চাপাতিতে শান দিয়ে রাখছি।

সুকুমার চন্দ্র দেব কর্মকার বলেন, দুই বছর ধরে করোনার জন্য কাজ করতে পারিনি। করোনা না থাকলে ঈদের এক মাস আগে থেকেই দোকানে ভিড় থাকে। কিন্তু এই বছর তা দেখা যাচ্ছে না।

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার শেরপুর রোডের এলাকার নিকুঞ্জ চন্দ্র দেব কর্মকার বলেন, লকডাউনের কারণে এত দিন কাজ বন্ধ থাকার কারণে তেমন কাজ হয়নি। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন একটু কাজ হচ্ছে। তবে লকডাউনের কারণে কয়লা আর কাঁচামাল আনতে পারিনি। লকডাউনের জন্য গণপরিবহন না চলার কারণে যেতে পারছিলাম না। ঈদের আগে যদি ঠিকমতো কাজ করতে পারি তা হলে অন্তত কয়েকটা দিন একটু ভালো ভাবে চলতে পারবো।

বর্তমানে বেচা-কেনা কেমন চলছে জানতে চাইলে রাখাল দেব কর্মকার বলেন, কয়লা ও লোহাসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ হয় না। খদ্দেরই নেই, আবার আগের মতো বেচাকেনাও নেই। আর কিছুদিন পর ঈদ। অন্যবার এমন সময় জমে ওঠে দা-বটির বাজার, অথচ এবার বিক্রিই নেই। ক্রেতারা আসছেই না। সারাদিনে দুই-তিনটা দা-বটিও বিক্রি হয় না।

চন্ডি দেব কর্মকার জানান, চাপাতি ৩০০ থেকে ৯০০ টাকা, সরঞ্জাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, ছুরি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, ছোট ছুরি ৩০ থেকে ১২০ টাকা। তবে লোহার আকৃতির কারণে এর দাম কম বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া পুরনো দা, বটি, ছুড়ি শান দিতে বা লবণ-পানি দিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews