1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০৪ অপরাহ্ন

কোন উৎসব হলেই সিলেটের পাড়ায় মহল্লায় গরু জবাই নেওয়া হয় অতিরিক্ত দাম

সিলেটের খোঁজখবর
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০২৩
  • ১২৯ বার পঠিত

ডেস্কঃ নগরীতে গরু ও খাসির মাংসের দাম নির্ধারণ করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু দামের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন দোকানে অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠছে। বেশী দামে মাংস বিক্রি করায় বৃহস্পতিবার ভোক্তা অধিকারের ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক অভিযানে নগরীর শাহী ঈদগাহ ও আম্বরখানায় দুটি মাংসের দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে রমজান উপলক্ষে নগরীর মাংসের দোকান ছাড়াও বৃহস্পতিবার পাড়ায় মহল্লায় ব্যক্তিদের যৌথ উদ্যোগে শতাধিক গরু জবাই হয়েছে। এসব স্থানে মাংস ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নগরীর দোকানগুলোতে ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা দরে খাসির মাংস বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করে নগরীর দোকানগুলোতে নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রির কথা জানিয়েছেন মহানগর মাংস ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল খালিক। কেউ বেশী দামে বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবী জানান তিনি। একই সাথে পাড়া মহল্লায় গরু জবাই করে ইচ্ছামতো দামে মাংস বিক্রি বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবী জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের গত ১৪ মার্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিদ্যুৎ-পানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের নাগরিক সেবা নিশ্চিতের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় একই সাথে নগরীর মাংসের দোকানের দাম নির্ধারণ করা হয়। সভায় প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭২০ টাকা, খাসির মাংস ৯৫০ টাকা, মহিষের মাংস ৬০০ টাকা, ভেড়া খাসির মাংস ৯০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সিটি কর্পোরেশন।

কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ মাংস ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবী সব ধরনের পণ্যের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। একই সাথে বেড়েছে পশু খাদ্যের দাম। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি করলে ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হবে বলেও জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের (২০২২ সালের) ২৯ মার্চ এক বৈঠকে নগরীতে গরু, ছাগল ও খাসির মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেয় সিসিক। এতে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, ছাগলের মাংস ৭৫০ এবং খাসির মাংস ৮৫০ টাকায় বিক্রি করতে জানানো হয়েছে ব্যবসায়ীদের। কিন্তু সিসিকের নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রিতে অস্বীকৃতি জানান ব্যবসায়ীরা। প্রতিবাদে গত বছরের ৭ এপ্রিল থেকে মাংস বিক্রিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেন ব্যবসায়ীগণ। এতে বিপাকে পড়েন সাধারণ ক্রেতা ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে ১০ এপ্রিল রাতে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে নগরীর মাংস ব্যবসায়ীগণ জরুরী বৈঠকে বসেন। বৈঠকে দাম বাড়ানোর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন ১১ এপ্রিল থেকে নগরীতে ফের মাংস বিক্রি শুরু করেন তারা। ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মূখে তখন নগরীতে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ৮৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মাংসের দাম কেজিতে বাড়ানো হয় ৫০ টাকা।

তবে এই অবস্থা খুব বেশীদিন যায়নি, এরমধ্যে নগরীর মাংস ব্যবসায়ীদের সিসিকের সাথে কোন সভাও হয়নি। এরপরও নগরীতে এতদিন ধরে গরুর মাংস ৭০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। সর্বশেষ চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে রমজানকে সামনে রেখে ফের মাংসের দাম বাড়ার সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা। উপস্থিত সিসিক কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গরুর মাংসের দাম ৭২০ টাকা, খাসির মাংসের দাম ৯৫০ টাকা, ভেড়ার খাসির মাংসের দাম ৯০০ টাকা, মহিষের মাংসের দাম ৬০০ টাকা প্রতি কেজি নির্ধারণ করা হয়।

মাংসের দাম নির্ধারণের তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বদরুল হক দৈনিক জালালাবাদকে জানান, নগরীর মাংস ব্যবসায়ীদের সাথে এক বৈঠকে মাংসের দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে সভায় তাৎক্ষনিভাবে এই দামে মাংস বিক্রিতে অস্বীকৃতি জানান ব্যবসায়ীরা। সভায় উপস্থিত সিসিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও প্রশাসনের বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তাদের পীড়াপীড়িতে এই দামে মাংস বিক্রিতে রাজী হয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: জাহিদুল ইসলাম দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, গত বছর রমজানের পূর্বে মাংসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর আর তাদের সাথে বসা হয়নি। আবারো রমজানকে সামনে রেখে মাংস ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক বসে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্য ও পশুখাদ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে আরো বাড়ানোর দাবী জানিয়েছিলেন। কিন্তু আপাতত এই দামেই তাদেরকে মাংস বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা খাসির মাংস ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকেই ক্রেতাদের পীড়াপীড়িতে ৭২০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করলেও খাসির মাংস ১০০০ টাকার নিচে বিক্রি করতে রাজী হচ্ছেন না।

এদিকে বৃহস্পতিবার নগরীর শাহী ঈদগাহ ও আম্বরখানা এলাকায় মাংসের দোকানে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করায় দুই মাংসের দোকানদারকে ৫ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর মাংস ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নগরীর লালবাজারস্থ শুভেচ্ছা মিটশপের স্বত্তাধিকারী শেখ আব্দুল খালিক বলেন, আমাদের চাওয়া ছিল দেশের অন্যান্য জেলার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মাংসের দাম বাড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু সিসিকের সভায় রমজানকে সামনে রেখে গরুর মাংস ৭২০ টাকা কেজি দরটি আমাদের উপর অনেকটা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপরও আমরা সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা মেনে নিয়েছি। আমাদের সমিতির সকল সদস্যদের এই দামে মাংস বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছি। কেউ যদি বেশী দামে মাংস বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমরাও সমিতির রেজুলেশন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।

তিনি বলেন, রমজান উপলক্ষে নগরীর আনাচে কানাচে গরু জবাই করে বিক্রি করা হয়েছে। কোথাও মাংসের কেজি ১০০০ টাকার উপরেও বিক্রি হয়েছে। এছাড়া এসব গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও হয়নি। কিন্তু এর দায়ও আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। নগরীতে আমাদের সমিতির অন্তর্ভূক্ত ৫০টি মাংসের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে সিসিকের নির্ধারিত দামেই মাংস বিক্রি করতে হবে। এর বাইরে গেলে প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর










x