1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:০৬ অপরাহ্ন

ঘটনার সময় ২শ’ মাইল দূরে থেকেও ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি!

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১
  • ১৩৭ বার পঠিত

ঘটনার সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২শ’ কিলোমিটার দূরে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থেকেও বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের হওয়া ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি হয়েছেন ৩ জন। এদের একজন সংবাদকর্মী, একজন সঙ্গীতশিল্পী এবং একজন ব্যবসায়ী।

যদিও সরাসরি এই বিষয়টি স্বীকার করেননি কোতোয়ালি মডেল থানার কোনো কর্মকর্তা। তারা বলছেন, বিষয়টি আমাদের এতটাই বিব্রত করেছে যে, তদন্তে মামলার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বাদীর বিরুদ্ধে।

গত ৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের হয় এ মামলা। বাদী ঝালকাঠি জেলা সদরের নতুন চর ৯নং ওয়ার্ডের মো. নাছির শরীফের স্ত্রী ফাটতেম শরীফ।

মামলার অভিযোগে ফাটতেম বেগম বলেন, গত ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি বরিশাল নগরীতে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগী দেখার জন্য আসেন। সেখান থেকে বের হয়ে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ব্যক্তিগত কিছু শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য তিনি যান নগরীর সদর রোড এলাকায়।

সদর রোডে সিটি কলেজ গলির মুখে ফলের দোকানের কাছে পৌঁছলে উল্লেখিত ৩ আসামিসহ আরও কয়েকজন তার পথরোধ করে শ্লীলতাহানির পাশাপাশি টেনেহিঁচড়ে পার্শ্ববর্তী হোটেলে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ফাতেমা শরীফকে লাঠি দিয়ে আঘাত এবং কামড় দিয়ে আহত করা হয়। তাকে বাঁচাতে সঙ্গে থাকা বান্ধবী রাকি জাহান এগিয়ে এলে তারও শ্লীলতাহানি-মারধর করা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

৩ তারিখের ঘটনায় ৫ আগস্ট মামলা দায়েরের কারণ হিসেবে মারধোর-কামড়ে আহত হওয়ায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেড়ি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় এজাহারে।

নাম-পরিচয় না প্রকাশের শর্তে কোতোয়ালি মডেল থানার একজন কর্মকর্তা বলেন, মামলা দায়েরের জন্য এজাহার নিয়ে ফাটতেম শরীফ থানায় আসার পরপরই ঘটনার সত্যতা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। কেননা ঘটনাস্থল হিসেবে যে জায়গার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটি বরিশাল নগরীর অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা। কোতোয়ালি মডেল থানা থেকেও এর দূরত্ব খুব বেশি নয়। এরকম একটি ঘটনা ঘটলে অবশ্যই বিষয়টি থানা পুলিশের কানে আসতো। কিন্তু একদিকে যেমন এরকম কিছু আমাদের জানা নেই তেমনি আলোচ্য বাদীর আচার আচরণ-ও ছিল রহস্যজনক। যে কারণে প্রথম দিকে আমরা মামলা নিতে চাইনি। একপর‌্যায়ে মামলা না নিরে আত্মহত্যা করার হুমকি দেয় বাদী। একইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করার কথাও বলে সে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে মামলাটি গ্রহণ করা হয়।

অভিযোগের পুরোটা মিথ্যা উল্লেখ করে আক্কাস সিকদার বলেন, ঘটনার যে তারিখ এবং সময় উল্লেখ করা হয়েছে তখন আমি ছিলাম রাজধানী ঢাকার পাইকপাড়া এলাকায়। মামলা হয়েছে শুনেই ঢাকার যেখানে ছিলাম সেখানকার আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজগুলো সংগ্রহ করেছি। তাতে স্পষ্ট আছে যে ঘটনার সময় এবং তারিখে ঢাকায় পাইকপাড়ায় ছিলাম। নেয়ামুল বাশারের বাসা ঢাকার মগবাজার এলাকায়। তার কাছেও ওই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে। ওই ফুটেজেও প্রমাণ আছে যে তিনি ঘটনার সময় ঢাকার মগবাজার এলাকায় ছিলেন। এটা পুরোপুরি একটা মিথ্যা মামলা।

দায়ের হওয়া এই মামলার বিষয়ে খোঁজ নিতে কোতোয়ালি মডেল থানার কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তারা বলেন, সাধারণত খানিকটা খোঁজখবর নিয়ে অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণ করি আমরা। কিন্তু এই মামলাটি নিতে অনেকটা বাধ্য করা হয়েছে। এরইমধ্যে প্রাথমিক তদন্তে মামলার অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়েছে আমাদের কাছে। ঘটনাস্থল হিসেবে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে সেখানে একাধিক সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ঘটনার যে সময় বলা হয়েছে তখনকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে এরকম কোনো ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি। বাদী এবং আসামির মোবাইলের লোকেশনে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে ঘটনার সময় বাদী ছিলেন ঝালকাঠি এবং আসামি ছিলেন ঢাকায়। এছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশের বাসিন্দারাও বলছেন যে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মামলার বাদী ফাটতেম শরীফের দাবি অনুযায়ী, যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। অতএব সিসি ক্যামেরায় ঘটনা রেকর্ড হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া ঘটনার সময় মোবাইল তার কাছে ছিল বলেই দাবি করেন তিনি।

পুরো বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, মামলা করার অধিকার সবারই আছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তদন্ত করে মামলাটি সঠিক নাকি মিথ্যা তা আদালতকে জানানো। সঠিকভাবেই সেটি করব আমরা। এরপর যদি দেখা যায় যে অভিযোগটি সত্য নয় এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে কিছু মানুষকে বিপদে ফেলার পাশাপাশি পুলিশকে হয়রানি করা হয়েছে তবে আইনে যা আছে আমরা সেভাবেই এগুবো। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews