1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

জকিগঞ্জে সৌভাগ্য শিখা : দেশের ২৮ তম গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১
  • ১০৬ বার পঠিত

দেশের ২৮ তম গ্যাসক্ষেত্র এখন সিলেটের জকিগঞ্জে। দীর্ঘ ৫ বছর অনুসন্ধানের পর জকিগঞ্জ পৌর এলাকার আনন্দপুরে এই গ্যাসক্ষেত্র হতে গতকাল শুরু হলো গ্যাস উত্তোলন। এতে জকিগঞ্জে যেন জ্বললো নতুন সৌভাগ্যের শিখা।

মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টায় ডিএসটি (ড্রিল স্টিম টেস্ট) সৌভাগ্য শিখা জ্বালাতে সক্ষম হয় রাষ্ট্রীয় কোম্পানী বাপেক্স। কূপটির অভ্যন্তরে চাপ রয়েছে ৬ হাজার পিএসআই (প্রতি বর্গ ইঞ্চি) আর ফ্লোটিং চাপ রয়েছে ১৩ হাজারের অধিক। প্রথমত একটি স্তরের টেস্ট চলমান। কূপটিতে মোট ৪টি স্তরে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে বাপেক্স। তবে পরবর্তী ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত এই পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এই ফিল্ডটি থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে বিয়ানীবাজার ও ৪৬ কিলোমিটার দূরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার অবস্থান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের শুরুতে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পেট্রোবাংলার একটি কোম্পানী বাপেক্স জকিগঞ্জ পৌর এলাকার পশ্চিম আনন্দপুরে গ্যাস অনুসন্ধান কূপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রূপকল্প-২ নামে প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হয়। অনুমোদনপ্রাপ্তির পর জকিগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত মধুদত্ত মৌজায় ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর বাপেক্স কর্তৃক জকিগঞ্জ-১ অনুসন্ধান কূপের লোকেশন সরেজমিনে চিহ্নিত করে কূপ এলাকার ভূমি উন্নয়ন এবং এপ্রোস রোড নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী মোট ৫.০১ একর ভূমি অস্থায়ী হুকুম দখলের অনুমোদন গ্রহণ করে। ২০১৮ সালের ২৩ মে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ‘রূপকল্প-২’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীন ‘জকিগঞ্জ-১’ অনুসন্ধান কূপ খনন এলাকায় বালি ভরাটের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন ও অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের লক্ষ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করে। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) সফলতার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। শীঘ্রই এ গ্যাস কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস যুক্ত করার আশাবাদ ব্যাক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে গ্যাস উত্তোলন প্রসঙ্গে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী তাৎক্ষণিক কোন মতামত না দিয়ে বলেন, আমরা ভালো কিছু আশা করছি। অনেক সময় পকেট থাকতে পারে, তাই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কয়েক ঘন্টা পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবো। তার আগে বললে সেটি সঠিক নাও হতে পারে।

জানা যায়, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ২৭টি গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছে। এসব গ্যাসক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুদের পরিমাণ ২১ দশমিক ৪ টিসিএফ, সম্ভাব্য মজুদ রয়েছে আরো ৬ টিসিএফ। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ১৮ টিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে। সেই হিসেবে প্রমাণিত মজুদ অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৩ টিসিএফ, আর সম্ভাব্য মজুদ রয়েছে আরো ৭ টিএসএফ’র মতো। ১১৩ টি কূপ দিয়ে প্রতি বছরে উত্তোলিত হচ্ছে প্রায় ১ টিসিএফ’র মতো। এরমধ্যে দেশীয় কোম্পানির ৭০টি কূপের (দৈনিক) ১ হাজার ১৪৫ এমএমসিএফডি, আইওসির ৪৫টি কূপের উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট) রয়েছে। দৈনিক কমবেশি ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে। গ্যাসের ঘাটতি মোকাবেলও এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews