1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন

টিকায় কমছে মৃত্যু ঝুঁকি, যেতে হচ্ছে না হাসপাতালে

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১
  • ১৩৪ বার পঠিত
সিলেটে এক মাসের জরিপ

ডেস্কঃ জুলাই মাসের শুরুর দিকে করোনা আক্রান্ত হয়ে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভাষা রেহনুমার। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ভাষার পরাজয় নাড়া দেয় সিলেটবাসীকে। কিন্তু দানব করোনা পরাজিত হয় সুনামগঞ্জের কণ্ঠশিল্পী তুলিকা ঘোষের মা আশি-ঊর্ধ্ব সুদীপ্তা ঘোষের কাছে। হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপসহ নানান রোগ থাকলেও ২২ দিন হাসপাতালে থেকে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হয়ে তিনি ফিরেছেন বাসায়। এমন অবস্থায় করোনার টিকার সুফলের বিষয়টি আসছে আলোচনায়।

গত জুলাইয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা মিলে করোনা আক্রান্ত ২৫ জনের ওপর সমীক্ষা করে টিকায় সুফল মিলতে দেখা গেছে। টিকা নেয়ার পরও করোনায় আক্রান্ত হলে সহজেই মিলছে মুক্তি। অপরদিকে টিকা না নেয়াদের ভুগতে হচ্ছে অতিমাত্রায়। এমনকি টিকা না নেয়াদের মৃত্যুও বেশি। সমীক্ষায় ২৫ জনের মধ্যে ১৪ জন নিয়েছিলেন টিকা। অন্য ১১ জন ছিলেন টিকা না নেয়া।

টিকা না নেয়া ১১ জনের মধ্যে ভাষা রেহনুমাসহ মোট ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের বয়স যথাক্রমে ৩৮, ৪০, ৫০, ৫৫, ৬৮, ৮১। মারা যাওয়া সাতজন ছাড়াও বাকি ৪ জনের ১ জনের বয়স মাত্র ২৭ বছর। তিনি বর্তমানে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। অন্য ৩ জনের একজন ৩০ বছর বয়সী নারী চিকিৎসক। তিনি গর্ভবতী থাকায় নিতে পারেননি টিকা। তবে টিকা না নিলেও বাসায় থেকেই সুস্থ হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে অক্সিজেন গ্রহণসহ মারাত্মক ভুগতে হয়েছে তাকে। অন্য দু’জনের বয়স ৫৩ বছর। যার একজন আগে থেকে কোনো রোগে আক্রান্ত না থাকলেও চার দিন আইসিইউতে থাকতে হয়েছে। আর একজন শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে প্রায় ১০ দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এমন অবস্থায় টিকা না নেয়াদের মধ্যে রিয়াজুল ইসলাম রানু (৫৩) নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘হায়াতের মালিক আল্লাহ। কিন্তু আমার জীবনে সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভুল ছিল সুযোগ থাকা সত্ত্বেও টিকা না নেয়া। তা না হলে আমার থেকে বয়স্ক মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেও দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরেছে। আর আমি আইসিইউতে চিকিৎসা নিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলাম।’

অপরদিকে টিকা নেয়া ১৪ জনের মধ্যে ৩ জনের বয়স যথাক্রমে ৫৬, ৬৮ এবং ৭০। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু মাত্র দুই থেকে তিন লিটার করে দৈনিক অক্সিজেন লেগেছে। এর মধ্যে ৫৬ বছর বয়সের রিনা বেগমের পূর্বে দু’বার অস্ত্রোপচার হয়েছিল, হার্টে রিং লাগানো এবং ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। অন্য দু’জনের একজন পূর্বে থেকে শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগে ভুগছিলেন। তাদেরও প্রয়োজন হয়নি আইসিইউ। তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। অন্য ১১ জনের মধ্যে ৩ জনের বয়স ৩২ থেকে ৪০ বছর, পাঁচজনের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছর এবং তিনজন ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সের। তারা সবাই বাসায় থেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

এমন অবস্থায় টিকা নিয়ে সপরিবারে আক্রান্ত হওয়া রিনা বেগমের ছেলে থিয়েটার সাস্টের নাট্যকর্মী ইসমাইল হোসেন তফাদার বলেন, আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি- টিকাই রক্ষা করেছে। তা না হলে আমার মায়ের আগে থেকে যত সমস্যা ছিল এবং বয়সের হিসাব, সব মিলে কী হতো সেটা অন্যদের পরিস্থিতি দেখেই বোঝা যায়।

এদিকে নগরীর রাগীব রাবেয়া মেডিকেলের করোনা আইসিইউর দায়িত্বরত চিকিৎসক শাকিলুর রহমান নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, আমি গত কিছু দিনে ৩১ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর তথ্য নিয়েছিলাম। এর ১৭ জন টিকা নেননি। তার মধ্যে ১৪ জনকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসতে হয়েছে। যার ৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের সবার বয়স ৫০ থেকে ৭০-এর মধ্যে। অপর ৩ জন বাড়িতে বসেই সুস্থ হয়েছেন। তাদের বয়স যথাক্রমে ৩৫, ২৭, ২৪ বছর। অপরদিকে টিকা নেয়া ১৬ জনের মধ্যে মাত্র একজনের আইসিইউর প্রয়োজন হয়েছে। তার বয়স ছিল ৬৫ বছর এবং ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া বাকি সবাই বাড়িতেই সুস্থ হয়েছেন। সে হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা বলছে টিকা নেয়া রোগীরা দ্রুত সেরে উঠেছেন।

অপরদিকে সিলেটের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড ডা. শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৈয়দ নাফি মাহদি শনিবার রাতে জানান, হাসপাতালে মোট ভর্তি আছেন ১০২ জন। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই টিকা নেননি। এমনকি আইসিইউতে ভর্তি ১৬ জনের ১৪ জনই টিকা না নেয়া। সে হিসেবে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, টিকা নিলে করোনা আক্রান্ত হলেও ঝুঁকিতে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। এটা একদম পরিষ্কার তথ্য।

অবশ্য এ সমীক্ষার সঙ্গে একমত পোষণ করে করোনা মহামারি থেকে সুরক্ষার একমাত্র পথ টিকা এবং মাস্ক বলে জানালেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews