1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:১২ অপরাহ্ন

টিসিবি’র পণ্য দোকানে বিক্রি করছে সিলেটের দুই ‘জালিয়াত’!

  • আপডেট সময় : রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১
  • ১২০ বার পঠিত
ফাইল ছবি

ডেস্কঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মেসার্স রাম ও মেসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে টিসিবি’র পণ্য উত্তোলন করে গায়েব করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলত মেসার্স রাম ও মেসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্থিত্ব নেই জৈন্তাপুরে।

টিসিবি আঞ্চলিক কেন্দ্র মৌলভীবাজারের শেরপুর হতে দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়মিত পণ্য উত্তোলন করা হলেও জৈন্তাপুরে সেসব পণ্য কখনও বিক্রি না করে অন্যত্র দোকানে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে টিসিবি ডিলারের নির্ধারিত ঠিকানা জৈন্তাপুর বাজারের ফতেহখাঁ রোড এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে পুরো জৈন্তাপুর উপজেলায় খুঁজে প্রতিষ্ঠান দুটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। জৈন্তাপুর স্টেশন বাজার ও জৈন্তাপুর পূর্ববাজারের ব্যবসায়ীরা এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মোসার্স রাম ও মোসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ নামের কোনো প্রতিষ্ঠান উপজেলার কোনো বাজারে নেই। এগুলো সরকারি পণ্য জালিয়াতচক্রের সৃষ্ট ভুয়া প্রতিষ্ঠান।

অপরদিকে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জৈন্তাপুর বাজারের টিসিবির লাইসেন্সধারী মেসার্স রাম ও মেসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠান দুটি’র অস্তিত্ব উপজেলার কোথাও খুঁজে পাননি।

টিসিবির লাইসেন্স যাচাই করে দেখা যায়, জালিয়াত চক্রের সদস্য সিলেট জেলার দাড়িয়া পাড়ার বাসিন্দা গিরিন্দ্র পুরকায়স্থের ছেলে হরেন্দ্র পুরকায়স্থ ২০২০ সালের ১ অক্টোবর নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক ফতেহখাঁ রোডে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মর্মে মেসার্স রাম এন্টারপ্রাইজ (২৪৭/২০২০-২০২১) এবং দাড়িয়াপাড়ার অপর বাসিন্ধা রঞ্জন দাসের ছেলে ঝলক দাস মেসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ (২৪৫/২০২০-২০২১) নামে দুটি ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে। মূলত জৈন্তাপুরে এই নামে কোনো দোকান নেই। পরবর্তীতে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজসে নিজপাট ইউনিয়নের ফতেহখাঁ রোডে কাগজপত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে টিসিবি’র ডিলারশিপের আবেদন করে হরেন্দ্র পুরকায়স্থ ও ঝলক দাস।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, টিসিবির’র লাইসেন্স প্রাপ্তিতে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসের তিনজন কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ইতোমধ্যে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রাপ্তিতে ১জনের টাকা গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে নিরবে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। টিসিবি’র লাইসেন্স বরাদ্ধের তাদের যোগসাজসে ভুয়া প্রতিষ্ঠান দুটি টিসিবি’র লাইসেন্স পায়।
লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়ে কয়েক দফা টিসিবি’র আঞ্চলিক কেন্দ্র মৌলভীবাজারের শেরপুর হতে পণ্য উত্তোলন করেন হরেন্দ্র পুরকায়স্থ ও ঝলক দাস। কিন্তু উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২৬টি বিক্রয় পয়েন্টের মধ্যে কোনো পয়েন্টে তারা টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করেননি।

এ বিষয়ে টিসিবি’র লাইসেন্সধারী মেসার্স ফয়েজ ভেরাইটিজ সেন্টারের প্রোপাইটর মোক্তার আহমদ বলেন, টিসিবি’র লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদনের পর উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় সরজমিনে প্রতিষ্ঠান ও গোদাম যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে আবেদনটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রেরণ করে উপজেলা পরিষদ। জেলা প্রশাসক থেকে পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদনসহ সেই আবেদন বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিলে আমাকে টিসিবি’র লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

টিসিবি’র লাইসেন্স পেতে প্রায় ২বৎসর সময় লেগে যায় উল্লেখ করে মোক্তার আহমদ আরও বলেন, লাইসেন্স প্রাপ্তির পর আমি দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার ২৬টি পয়েন্টে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিডিউল মোতাবেক টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় করে আসছি। পরে হঠাৎ টিসিবি’র আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে জানতে পারি- জৈন্তাপুরে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান টিসিবি’র লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়ে পণ্য উত্তোলন করেছে। তারা কোথায় পণ্য বিক্রয় করেছে তা আমার জানা নেই।

নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইয়াহিয়া এ বিষয়ে সিলেটভিউ-কে বলেন, নিজপাট ইউনিয়নের জৈন্তাপুর বাজারে বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা আমার ইউপি’র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে পাথর, কয়লা, বালুসহ বাজারে বিভিন্ন রকমের ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন। কিন্তু টিসিবি’র ডিলার প্রাপ্তির জন্য কারা আবেদনকরে লাইসেন্স নিয়েছে তা আমার জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদের প্রতিটি মিটিংয়ে আমি উপস্থিত থাকি। আমার ইউনিয়নে দুটি টিসিবি’র লাইন্সেন প্রদান করা হলে চেয়ারম্যান হিসাবে অবশ্যই আমার জানার কথা। কিন্তু উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে টিসিবি’র লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে মর্মে আমার জানা নেই। বর্তমানে প্রতিষ্ঠার দুটির বিপরীতে বরাদ্ধকৃত লাইসেন্সর মেয়াদও উর্ত্তীণ হয়েছে। নতুন করে যেন লাইসেন্স নবায়ন করতে না পরে সেজন্য ইউপি সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফতেহখাঁ রোডটি আমাদের সমিতির আওতাভুক্ত। সমিতির আওতাবুক্ত এলাকায় মেসার্স রাম ও মেসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই এবং অতিতেও ছিল না। এমনকি ফতেখাঁ রোডে স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোনো মোদি দোকান কিংবা ডিলারশিপের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই।

তারা আরোও বলেন, আমাদের জানামতে- জৈন্তাপুর উপজেলায় “রাম ও কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ” নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্বই নেই। এগুলো জালিয়াত চক্রের সৃষ্ট ভুয়া প্রতিষ্ঠান। অবিলম্বে প্রতিষ্ঠান দুটির নামে ইস্যুকৃত টিসিবি’র লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।

এসব বিষয়ে জানতে মেসার্স রাম এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার হরেন্দ্র পুরকায়স্থ লাইসেন্সে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে কথা না বলে ৫/৭ সেকেন্ড পর কল কেটে দেন।

মেসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ প্রোপাইটার ঝলক দাসের লাইসেন্সের উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করলে তিনি বলেন, এটি কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজের নাম্বার নয়। আমি কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজকে চিনি না। ফোন দিয়ে অযথা বিরক্ত করবেন না।

টিসিবি আঞ্চলিক কেন্দ্র মৌলভীবাজারের শেরপুর উপ-পরিচালক মো. ইসমাঈল মজুমদার এ বিষয়ে বলেন, বিধি মোতাবেক পত্র প্রাপ্তির পর আমরা প্রতিষ্ঠান দুটিকে টিসিবি’র পণ্য দিয়েছি।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূসরাত আজমেরী হক বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি। তদন্ত সাপেক্ষে জালিয়াত ও তাদের সহযোগিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আইনগত গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews