1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৮ অপরাহ্ন

দেশের ২৮ গ্যাসক্ষেত্রের ১১টিই সিলেটে

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১
  • ১৩৫ বার পঠিত

ডেস্কঃ এতোদিন দেশে গ্যাসক্ষেত্র ছিলো ২৭টি। এবার মুজিববর্ষে এসে নতুন একটি গ্যাসক্ষেত্র ঘোষণায় এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮টি। এই ২৮টির মধ্যে ১১টির অবস্থানই সিলেটে। নতুন এ গ্যাসক্ষেত্রটির অবস্থান সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে। প্রায় ৬ বর্গ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে এ গ্যাসক্ষেত্র ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে। মাত্র ৭৫ কোটি টাকা খরচে এ গ্যাসক্ষেত্রের খনন শেষ করে ১২ শত ৭৬ কোটি টাকার গ্যাসের সন্ধান মিলেছে।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়ে জকিগঞ্জের আটগ্রাম এলাকায় একটি গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মেলে। দীর্ঘ চেষ্টার পর খনন করেও সে গ্যাসক্ষেত্র আলোর মুখ দেখেনি। যা এখন ‘মিনি পর্যটন স্পট’ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে একই উপজেলাতেই পাওয়া গেল দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র। যার খননকাজ শেষ, এখন উত্তোলনের অপেক্ষা। এ গ্যাসক্ষেত্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

গত সোমবার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে ‘এনার্জি সিকিউরিটি : মডার্ন কনটেক্সট, চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ১২-১৩ বছর পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব জানিয়ে বলেন, এ পরিমাণ গ্যাসের মূল্য প্রায় এক হাজার ২৭৬ কোটি টাকা হবে।

এদিকে স্বাধীনতার পর গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান করে ব্যর্থ হলেও এবার সফলতার সংবাদে আনন্দ বিরাজ করছে উপজেলাজুড়ে। সেইসঙ্গে গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাসে জকিগঞ্জ উপজেলাকেই প্রথমে প্রাধান্য দেয়ার দাবি উপজেলা চেয়ারম্যান লোকমান আহমদের। এ গ্যাসক্ষেত্রের মাধ্যমে জকিগঞ্জকে দেশের মানুষ নতুন করে চিনল এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমি আক্তারের।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২৮টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে জকিগঞ্জের নতুন এ গ্যাসক্ষেত্রসহ সিলেট বিভাগে হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র, ছাতক টেংরাটিলা, রশিদপুর, কৈলাসটিলা, হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র, বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্র, জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্র, ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র, মৌলভীবাজার মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্র, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র মিলে ১১টিই বৃহত্তর সিলেট বিভাগে অবস্থিত।

২৮তম এ গ্যাসক্ষেত্র জকিগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর এলাকায়। এর আয়তন প্রায় ৬ বর্গ কিলোমিটার। এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে বিয়ানীবাজার ও ৪৬ কিলোমিটার দূরে গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র। এর সম্পূর্ণ কাজ করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)।

বাপেক্সের ভূতত্ত্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন জানান, স্বাধীনতার পর জকিগঞ্জের আটগ্রাম এলাকায় একটি গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান করেও পরে গ্যাস মেলেনি। এরপর ওই এলাকাটায় আর তেমন নজর দেয়া হয়নি। কিন্তু সময়ে সময়ে দেশে গ্যাসের সম্ভাবনা ফুরিয়ে আসায় ছোট ছোট সম্ভাবনাকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তাই প্রায় দুই বছর আগে নতুন এ গ্যাসক্ষেত্রের স্থান নির্ধারণ হয় এবং চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে খননকাজ শুরু হয়। মে মাসে খনন শেষ করে জুন মাসের মাঝামাঝি সময় আগুন জ্বালানো হয়। ৭২ ঘণ্টা আগুন জ্বালানোর পর পূর্ণ সফলতার দেখা মেলে। এখানে প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ আছে। চারটি স্থরে সম্ভাবনা থাকলেও একটি স্তরে বাণিজ্যিক মজুদ পাওয়া যায়।

আলমগীর হোসেন আরো জানান, এর খনন কাজের বাজেট ছিলো ৮৬ কোটি টাকা। কিন্তু খরচ হয় ৭৫ কোটি টাকা। এটিকে মাটির নিচ দিয়ে সংযোগ লাইনের মাধ্যমে গোলাপগঞ্জের কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে উত্তোলন কাজ শুরু করা হবে। এ কাজ দ্রুত করা হবে বলেও জানান তিনি।

ভূতত্ত্ব বিভাগের এ মহাব্যবস্থাপক আরো বলেন, গ্যাসক্ষেত্রের পাশেই ত্রিমাত্রিক জরিপের মাধ্যমে আরো কূপ খননের প্রস্তুতি আছে। সেগুলোতেও আমরা সফল হব আশা করি। এমনকি সিলেটের আরো বেশ কিছু জায়গায় এরকম ছোট ছোট সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews