1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৪:২৬ অপরাহ্ন

দোয়ারাবাজারে ফিল্মি স্টাইলে বাড়িঘর লুটপাট ও ভাংচুর, আহত ২০

  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
  • ১৪২ বার পঠিত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ফিল্মি স্টাইলে বাড়িঘর লুটপাট, ভাংচুর ও অতর্কিত হামলা নারী ও শিশুসহ ৪ পরিবারের অন্তত ২০ জনকে আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।

বুধবার ভোররাতে দেশিয় অস্ত্রসস্ত্রসহ ঘুমন্ত অবস্থায় উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রসরাই ও নোয়াপাড়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রসরাই গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল একই গ্রামের গোলাপমিয়া ও ইয়াকুব আলীর সাথে। এরই জেরে বুধবার ভোর রাতে গোলাপ মিয়ার নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী লাঠিয়ালবাহিনী আবুল কাশেম ও তার তিন আত্মীয়ের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে বাড়ির লোকজনকে বেধড়ক পেটায়। এর আগে আবুল কাশেমের বসতঘরের সিসিটিভির তার কেটে দেয় তারা। এসময় পার্শ্ববর্তী নোয়াপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের আত্মীয়দের ঢেউটিনের ছাউনীযুক্ত আরো তিনটি ঘরে হামলা চালানো হয়। এ সময় ১টি মোটরসাইকেলসহ নগদ অর্থ, আসবাবপত্র লুটে নেয় বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

এদিকে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে গুরুতর আহত জহুর আলীকে (৩৫) সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অন্য আহতরা হলেন- বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, রহিমা খাতুন, ফুল নেহার, ফুল মেহের, রায়হান, সামিয়া, আরব আলী, রমিজ উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, রমিজ উদ্দিন, জরিনা, আবুল কাশেম, আকি নুর, সানজিদা, শহিদ মিয়া, জুনায়েদ প্রমুখ।

আবুল কাশেমের মা ফুলমেহের বলেন, গোলাপ তার বাহিনী নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আমি তখন ফজরের নামাজরত ছিলাম। এসময় লাঠি সুলফি, ইট পাথর নিক্ষেপ করতে থাকলে ঘরের দরজা ও কাচের জানালা ভেঙে সেগুলো ভেতরে আসতে থাকে। আমি চৌকাঠের ভেতর লুকিয়ে প্রাণ বাঁচাই।

আহত জরিনা বেগম বলেন, ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই গোলাপের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন লোক ঘর ভাংচুরসহ এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, ভোরে গোলাপ তার লাঠিয়ালবাহিনী নিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা চালায়। পুলিশ না আসা পর্যন্ত আমরা ঘরবন্দি থাকি।

আবুল কাশেম জানান, জমি সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির পর উচ্চ আদালতের রায়ে আমি জমি ভোগদখল করছি। সম্প্রতি জমির দখলচ্যুত করতে আমাকে চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষের লোকজন। আমি তখন পুলিশের সহায়তা চাইলে সংঘর্ষে না জড়াতে দু’পক্ষকে নির্দেশ দেন স্থানীয় থানা প্রশাসন। এর একদিন পরেই বুধবার ভোর রাতে আমাদের উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল হক বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে বুধবার সালিশ বসার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই একপক্ষ নিরীহ পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে মারধর, ভাংচুর ও বাড়িঘর তছনছ করে। আমি দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত। অভিযোগ পাওয়ার পর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews