1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৪ অপরাহ্ন

পরীমনি-পিয়াসাদের সাত মামলা সিআইডিতে

  • আপডেট সময় : শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১
  • ১২৮ বার পঠিত
কস্টিউম ডিজাইনার জিমি আটক

ডেস্কঃ সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হওয়া সাতটি মামলা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে (সিআইডি) ন্যস্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর, রহস্যময়ী চিত্রনায়িকা পরীমনি, আলোচিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ, চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি এসব মামলা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে এসব মামলা শুক্রবার সিআইডিতে ন্যস্ত করা হয়। এর আগে মামলাগুলো ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান যুগান্তরকে বলেন, পিয়াসা এবং মৌকে এরই মধ্যে সিআইডি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পিয়াসা ৫ দিনের এবং মৌ ৪ দিনের রিমান্ডে আছেন।

এদিকে চিত্রনায়িকা পরীমনির কস্টিউম জিজাইনার জুনায়েদ করিম জিমিকে (৩০) আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার রাতে গুলশান থেকে আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জিমির বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা হবে।

এর আগে দুপুরে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ের সামনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, জিমিকে শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, পরীমনি যেসব অবৈধ কাজ ও ব্যবসা করতেন, সেগুলো কাদের নিয়ে করতেন, কাদের সহযোগিতায় করতেন, কারা তার নেপথ্যে রয়েছে, আমরা তাদের নাম পেয়েছি।

তার বক্তব্য নোট করছি। যারাই তার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদেরই গ্রেফতার করা হবে। পরীমনির অন্ধকার জগতে পা দেওয়ার পেছনে এক নারীর সহযোগিতা রয়েছে দাবি করেন যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। সেই নারীকে খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনির সঙ্গে জিমি নামের এক তরুণ গিয়েছিলেন। তার বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। আশা করি, দ্রুত সবাইকে আমরা আইনের আওতায় আনতে পারব।

সেই নারীর নাম জানতে চাইলে ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা এ মুহূর্তে নামটি বলতে চাচ্ছি না। পরীমনির বাসায় মদ পাওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। পরীমনি ও রাজের ঘরোয়া পার্টিতে কারা আসতেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম রাজ তথাকথিত কয়েকজন মডেল দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নজনকে মনোরঞ্জন দিতেন।

তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি মূলত একজন মূর্খ, পড়ালেখা জানেন না। ঢাকায় এসে তিনি প্রথমে একটি ছোট চাকরি করতেন। পরে যোগাযোগ বাড়িয়ে সমাজের বিত্তশালীদের কাছে তথাকথিত মডেল সাপ্লাই দিয়ে বর্তমান অবস্থানে এসেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা অনেক নাম পেয়েছি। সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, সমাজে যারা অবৈধভাবে টাকা আয় করে বিত্তশালী হয়েছেন, তাদের সন্তানরা এসব অবৈধ পার্টিতে যাচ্ছেন এবং নীতিবহির্ভূত কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। সমাজের তথাকথিত বিত্তশালী, যারা মাদক কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রিমান্ডে পরীমনি বেশকিছু তথ্য দিয়েছেন। তাকে নিয়ে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা কে কখন কতদিনের প্লেজার ট্যুরে গেছেন সে সম্পর্কেও যথেষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সুচতুর পরীমণি সাধারণ সব প্রশ্নের উত্তর দিলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এসব ব্যাপারে তিনি কখনও নিরুত্তর থেকেছেন; কখনও ভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে প্লট পরিবর্তন করার চেষ্টা চালিয়েছেন। কখনও আবার কান্নাকাটি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি জানিয়েছেন, তার ব্যবহৃত গাড়িটি একজন কিনে দিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার বিশেষ সখ্য রয়েছে। করোনার মধ্যেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে দুবাই ভ্রমণে যান তিনি। এছাড়া বিদেশে বসবাসকারী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরীমনির যোগসূত্র ঘটিয়ে দেওয়ার কাজ করিয়ে দিতেন তুহিন সিদ্দিকী অমি।

গ্রেফতারের পর পরীমনির মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে অনেক ভিআইপি ও শিল্পপতির সঙ্গে তার যোগাযোগ ও বিশেষ সম্পর্ক থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীমণির সঙ্গে অনেক ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া অনেক রাজনীতিকের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল তার। আন্ডারওয়ার্ল্ডের অনেক সন্ত্রাসীকে অর্থের বিনিময়ে ‘বিশেষ সঙ্গ’ দিতেন তিনি।

৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শরিফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকার গুলশান, বারিধারা ও বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টি আয়োজনের বেশ কয়েকটি স্থানের তথ্যপ্রদান করে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানিক দল বনানী এলাকায় বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে পরীমনি (২৬), নজরুল ইসলাম রাজ (৩৯), পরীমনির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দীপু (২৯) ও রাজের ম্যানেজার সবুজ আলীকে (৩৫) গ্রেফতার করে। এর আগে পৃথক ঘটনায় হেলেনা জাহাঙ্গীর, পিয়াসা এবং মৌসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews