1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

প্রবাসীদের প্ররিশ্রমের টাকার সিংহভাগই বিমানভাড়া বাবত গুনতে হচ্ছে

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৭৪ বার পঠিত

ডেস্কঃ সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার জাফর আহমদ দুবাই থেকে কিছুদিন আগে ছুটিতে এসেছিলেন বাড়িতে। আসার সময় দুবাই থেকে সরাসরি ফ্লাইটে সিলেট আসেন। তখন তিনি ৪২ হাজার টাকায় বিমান টিকেট কিনেন। এখন ‍ছুটি শেষে দুবাই ফিরতে সিলেট থেকে টিকেট না পেয়ে ঢাকা থেকে বিমানের টিকেট কিনেন ৭৫ হাজার টাকায়।

এ চিত্র শুধু ওসমানীনগর উপজেলার জাফর আহমদের নয়, বিদেশে কর্মজীবিদের সবারই একই অবস্থা।

প্রবাসী জাফর আহমদ জানান, আগে যেখানে ভাড়া ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ছিল, এখন প্রায় ৮০ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়েছে। ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাড়তি মূল্যে টিকিট কিনতে হচ্ছে। তিনি অনেক কষ্ট করে একটি টিকিট ম্যানেজ করেছেন।

করোনা মহামারির পর যখন প্রবাসীরা বাংলাদেশে আসা-যাওয়া শুরু করেছেন, তখনই তাদের প্ররিশ্রমের টাকার সিংহভাগই বিমানভাড়া বাবত গুনতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কিছুদিন আগেও বিমানের টিকিটের দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। এখন তা ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। আবার বেশি দাম দিয়েও বিমানের টিকিট মিলছে না। অস্বাভাবিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরাও। এ অবস্থায় সিলেট বিভাগের অন্তত ২০ হাজার প্রবাসী মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে, টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এয়ারলাইন্সগুলোর বিরুদ্ধে।

অপরদিকে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্সি অব বাংলাদেশের (অ্যাটাব) অভিযোগ, ভাড়া বাড়ানোর জন্য এয়ারলাইনসগুলোই দায়ী। জনশক্তি রফতানিকারকদের অভিযোগ, বিমান পরিবহন সংস্থা ও অ্যাটাব সিন্ডিকেট করেই বিমান ভাড়া বাড়িয়েছে।

জানা গেছে, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের অনেকে দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ দামে টিকিট কিনে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। টিকিটের দাম বাড়ানোর সাথে বিমানের মার্কেটিং বিভাগের কিছু অসাধু চক্র জড়িত রয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। কোনো যাত্রী টিকিটের জন্য বিমানের অফিস গেলে তাকে বলা হচ্ছে টিকিট নেই। একই সাথে তারা জানিয়ে দিচ্ছে কোনো এজেন্সির কাছে কোনো এয়ারলাইন্সের টিকিট পাওয়া যাবে। এ অবস্থায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ওইসব স্থানে গিয়ে চড়া দামে টিকিট কিনছেন।

বিভিন্ন এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিকের তুলনায় ফ্লাইট সংখ্যা এখন অনেক কম দাবী করলেও এই তথ্য অস্বীকার করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। টিকিটের তুলনায় যাত্রী বেশী এই অযুহাতে টিকিটের দাম বৃদ্ধি করেছে এজেন্সীগুলো।

জানা যায়, গত নভেম্বরে বাংলাদেশ থেকে দুবাই ও আবুধাবি রুটে ভাড়া ছিলো ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। বর্তমানে এয়ারলাইনসগুলো ভাড়া বাড়িয়ে ৮৭ হাজার টাকা করেছে। ঢাকা থেকে ওমানের মাস্কাটের ভাড়া ৭২ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে, যা আগে ছিল ৩৫ হাজার টাকা। সৌদি আরবের ভাড়া নভেম্বরে ৪২ হাজার থাকলেও ডিসেম্বরে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার টাকায়।

এদিকে সৌদি আরবের এয়ারটিকিটের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসী ছাড়াও বিপাকে পড়েছেন ওমরাহ পালনকারী যাত্রীরাও। অনেকে ওমরাহ পালনের জন্য প্রস্তুতি নিলেও এয়ারটিকিটের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরব যেতে পারছেন না।

আটাব নেতারা জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্তমানে এয়ারলাইনসগুলো প্রতিদিন তিন হাজারের বেশি যাত্রী বহন করতে পারছেন না। ফলে দুই হাজার যাত্রীর টিকিটের সংকট লেগেই আছে। এই অবস্থায় টিকিট সংকট নিরসনে সম্প্রতি আটাবের পক্ষ থেকে চারটি প্রস্তাব দিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্সি অব বাংলাদেশের (আটাব) সহ সভাপতি আজহারুল কবির চৌধুরী সাজু সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, নভেম্বর মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে এয়ারলাইনসের ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অন্যতম কারণ এয়ারলাইনসগুলোর সিন্ডিকেট।

তিনি আরো বলেন, নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে এমনিতেই ভাড়া বেশি থাকে, তার মধ্যে এবার ওমিক্রনের কারণে যাত্রীরা ভয়ে আগে ভাগেই যেতে চাচ্ছেন, এজন্য টিকিট সংকট পড়েছে। তিনি বিমান কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বলেন, ট্রাভেল এজেন্সীগুলোর ভাড়া বাড়ানো কিংবা টিকেট ধরে রাখার ক্ষমতা নেই, সব কিছুর কন্ট্রোল বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে।

তবে বিমান ভাড়ার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলাপ চলছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন খুব তাড়াতাড়ি এর একটি সমাধান হবে।

এবিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার গনমাধ্যমকে বলেন, বিমানের টিকিট কিনতে হলে কিছু নিয়ম রয়েছে, তাৎক্ষণিক টিকিট কিনতে হলে বেশি দামে কিনতে হয়। আবার ফ্লাইটের পনেরো দিন বা এক মাস আগে টিকিট কিনলে কম দামে টিকিট পাওয়া যায়। তবে বিমানের কোন ফ্লাইট সংকট নেই বলে দাবী করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ওই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews