1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

সিলেটের বালাগঞ্জে উপড়ে ফেলা হলো হামিদের দু’চোখ ও মাথার খুলি

সিলেটের খোঁজখবর
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৬ মে, ২০২২
  • ১৪৮ বার পঠিত

ডেস্কঃ বালাগঞ্জে উপড়ে ফেলা হলো হামিদের দু’চোখ। এক চোখ উপড়ে নিয়েও গেছে। এছাড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুলিও মাথা থেকে আলগা করে দেয়া হয়েছে। ঈদের আগে এমন নির্মমতা হয়েছে উপজেলার খুজগিপুর গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ  দেখা দিয়েছে। পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে- হামিদের স্বজনরা জানিয়েছেন; তার অবস্থা গুরুতর। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জীবন নিয়ে লড়াই করছেন হামিদ। ঘটনা গত শনিবারের। হামিদ মিয়া একজন কৃষক।

তার চাচাতো ভাই আব্দুল মতিনের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে একই গ্রামের প্রভাবশালী লেবু মিয়ার। ফলে দুই পরিবারের মধ্যে এ নিয়ে কয়েক বছর ধরেই বিরোধ চলমান। কয়েক দিন আগে লেবু মিয়া মিথ্যা ঘটনায় বালাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

আর এতে তিনি অভিযুক্ত করেন আব্দুল মতিনের পরিবারের লোকজনকে। এই জিডি দায়েরের পর বালাগঞ্জ থানা পুলিশের কয়েকটি টিম এক সঙ্গে এলাকায় যায়। তারা গিয়ে আসামি গ্রেপ্তারের নামে এলাকায় ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে। এতে করে আব্দুল মতিনের পরিবারের অনেক সদস্য পুলিশি ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এই অবস্থায় ভয়ে ভয়ে ছিলেন আব্দুল মতিনের ভাই ও চাচাতো ভাইরা। শনিবার দুপুরের দিকে আব্দুল মতিনের চাচাতো ভাই হামিদ মিয়া নিজের জমি থেকে ধান কেটে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন।

বাড়ির পুকুর পাড়ে আসা মাত্র আব্দুল লেবু মিয়া অংশের লোকজন তার উপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত হামিদ মিয়া ঘটনার পরপরই জানিয়েছিলেন- তিনি আসা মাত্র ঝোপ থেকে বের হয়ে লেবু মিয়ার লোকজন তার উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তার উপর চড়ে বসে আব্দুল কুদ্দুস সহ কয়েকজন। এক পর্যায়ে কুদ্দুস কোমর থেকে ধারালো অস্ত্র বের করে তার মাথার খুলি আলগা করে ফেলে এবং ছোটো ধারালো ছুরি দিয়ে দুই চোখ উপড়ে ফেলে।

এর মধ্যে উপড়ে ফেলার পর বাম চোখ তারা নিয়ে গেছে। আর ডান চোখ উপড়ানো অবস্থায় চোখের কাছে ঝুলন্ত ছিল। এদিকে- চিৎকার শুনে হামিদের ভাই আব্দুর রকিব, স্ত্রী সহ স্বজনরা ছুটে গেছে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত হামিদকে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা শঙ্কটাপন্ন হওয়ার কারণে রাতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকলেও হামিদের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তারা আপাতত তার চোখ নিয়ে নয়, জীবন বাঁচাতে লড়াই চালাচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- মাথার খুলি আলাদা করার কারণে তার মগজের অংশ বের হয়ে আসে।

প্রাথমিকভাবে তারা খুলি অংশ সেলাই করেছেন। ওই অংশ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। হামলায় অন্য আহতরা হচ্ছেন- মৃত আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র জাকির আহমদ, একই গ্রামের আফতাব মিয়ার পুত্র জুনেদ আহমদ ও জিলু মিয়ার পুত্র শামসুল মুক্তাদির মিজান। দু’চোখ হারানো আব্দুল হামিদের ছোট ভাই আব্দুর রকিব জানিয়েছেন- দীর্ঘদিন  থেকে একই গ্রামের আব্দুল বারী খাজুরের ছেলে সন্ত্রাসী আসুক মিয়ার নেতৃত্বে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।

এলাকার নিরীহ  লোকজন তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। ঠিক একইভাবে শনিবার বেলা ২টার দিকে আসুক মিয়ার নেতৃত্বে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী নিরীহ আব্দুল হামিদসহ তার স্বজনদের ওপর তাদের বসত বাড়িতে এসে হামলা চালায়। এতে দুই সহোদরসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে আব্দুল হামিদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান- আব্দুল হামিদের একটি চক্ষু বের হয়ে গেছে। মাথায় মারাত্মক আঘাত রয়েছে।

তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অপর আহতরা সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার সময় বাধার মুখে পড়ে আহত হয়েছিলেন আব্দুল কুদ্দুস, আশুক মিয়া। তারা সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি। এর মধ্যে বালাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনার নির্মমতা ঠাহর করতে পেরে হাসপাতালে থাকা আব্দুল কুদ্দুসকে গ্রেপ্তার করেছে। আশুক মিয়া আটক করলেও উন্নত চিকিৎসার দোহাই দিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে।

বালাগঞ্জ থানার ওসি রমা প্রসাদ চক্রবর্তী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমরান ও মামুন নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। ওসমানী হাসপাতালে হাসপাতালে গ্রেপ্তার হয়েছে আরেকজন। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানান তিনি। গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন- আব্দুল মতিনের ভাই ও চাচাতো ভাইরা মসজিদে যেতে পারেননি। গোটা রমজান মাসই লেবু মিয়ার অংশের লোকজন সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। একটি মামলায় আসামিরা জামিন নিয়ে গিয়েই হামলা চালিয়ে হামিদকে গুরুতর আহত করেছে।

সুত্রঃ মানবজমিন




Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর










x