1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৪২ অপরাহ্ন

সিলেটে ওভারব্রিজ প্রকল্প নিয়ে যে প্রশ্ন?

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১
  • ১৯৩ বার পঠিত

সিলেটের খোজখবর ডেস্কঃ সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে প্রায় ৫ বছর আগে একটি ওভারব্রিজ নির্মাণ করেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ব্যস্ততম কোর্টপয়েন্ট এলাকাকে যানমুক্ত ও দুর্ঘটনা এড়াতে ওভারব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তখন অনেকেই এই ওভারব্রিজ নির্মাণ কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় হাসান মার্কেট ও মধুবন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। পথচারীরা ব্যবহার করেন না এই ওভারব্রিজ। ভুলেও কেউ সেখানে যান না। এ কারণে ওভারব্রিজে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আড্ডা ও আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

এখন এই ব্রিজটি সিটি করপোরেশনের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি অনুধাবন করেই মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কোর্ট পয়েন্টের ওভারব্রিজটি বিক্রি করে দিতে নিলাম আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওই ওভারব্রিজটি বিক্রির জন্য দু’দফা নিলামে সর্বোচ্চ দর ওঠে ২২ লাখ টাকা। এ কারণে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেটি বিক্রি করা হচ্ছে না। আবার ব্রিজটি অন্যত্র স্থানান্তরের চিন্তাভাবনা করা হলেও সিটি করপোরেশন সেই সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে। কোর্ট পয়েন্টের অব্যবহৃত ব্রিজ নিয়ে যখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে তখন সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আরো দুটি ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর টিলাগড়ে এমসি কলেজ এলাকায় নির্মিত ওভারব্রিজটির কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ করা হয়েছে। উপশহরের রোজভিউ পয়েন্টে আরেকটি ওভারব্রিজের চিন্তাভাবনা থাকলেও সেটি থেকে সরে এসেছে সিটি করপোরেশন। এখন তারা হুমায়ূন রশীদ চত্বরে আরেকটি ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এ দুটি ওভারব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মনে। চলছে বিতর্কও। আর এতে বিতর্কিত হচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তবে এই ওভারব্রিজ নির্মাণের একক দায় নিতে চাচ্ছেন না মেয়র আরিফুল হক। ‘উপর মহলের’ ইশারার কথাও গণমাধ্যমের কাছে ইঙ্গিত করে বলেছেন। সিলেটের কোর্ট পয়েন্টের ওভারব্রিজের তিক্ত অভিজ্ঞতায় টিলাগড় ও হুমায়ূন রশীদ চত্বরের ওভারব্রিজ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নগরের সচেতন নাগরকিরা বলছেন, ওভারব্রিজের নামে লুটপাটের জন্য এসব অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো নগরবাসীর কোনো উপকারে আসবে না। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজ ও সরকারি কলেজ খুললে সেতুটির ব্যবহার বাড়বে। শিক্ষার্থীরা সেতু ব্যবহার করে সড়ক পারাপার হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এমসি কলেজের ফটকে কয়েক মাস আগে দুর্ঘটনার সময় শিক্ষার্থীদের তরফ থেকে ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি উঠেছিল। পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে ঘন ঘন দুর্ঘটনা এড়াতে ওভারব্রিজ নির্মাণেরও দাবি উঠেছে। এ কারণে শাবি ফটকেও একটি ওভারব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তাভাবনা রয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান মানবজমিনকে জানিয়েছেন, এমসি কলেজে ওভারব্রিজ প্রয়োজনের কারণেই দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও দাবি জানিয়েছিল একটি ওভারব্রিজের। তবে, উপশহরের রোজভিউ পয়েন্ট এলাকায় ওভারব্রিজ করা হবে না। আপাতত ওই এলাকার একপাশে ওভারব্রিজ হবে। প্রয়োজনে অন্য পাশেও করা হবে বলে জানান তিনি। আর কোর্ট পয়েন্টের ওভারব্রিজটি এখন যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় থাকবে বলেও প্রধান প্রকৌশলী জানান। সিলেটে চলমান ওভারব্রিজের কার্যক্রমকে অপরিকল্পিত নগর উন্নয়নের প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কীম। তিনি জানিয়েছেন, এক ব্রিজের অভিজ্ঞতায় দৃশ্যমান হয়েছে ওভারব্রিজ আদতে কোনো কাজে লাগে না। পরিকল্পনা প্রণয়নে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এতে কেবল রাষ্ট্রীয় টাকার অপচয় হবে, দুর্নীতিও হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews