1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

সিলেটে করোনর টিকাদানকেন্দ্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, ক্ষোভ

  • আপডেট সময় : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১
  • ১৪২ বার পঠিত

ডেস্কঃ সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ৭ আগস্ট। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে একদিনে টিকাদান কর্মসূচি শেষ হলেও সিলেটে গণ টিকাদান চলেছে তিনদিন ধরেই।

তারপরও সিলেটে টিকা দেওয়া নিয়ে মানুষের মনে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। তাদের অভিযোগ- টিকা দেওয়ার জন্য দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হলেও হঠাৎ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে টিকা নেই।

তবে টিকাদান কেন্দ্রে যেসব ভলান্টিয়ার কাজ করছেন তারা তাদের কাছের মানুষজনকে নানা কৌশলে টিকা দিয়ে দিচ্ছেন বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ।

ভোগন্তিতে পড়া মানুষজন বলছেন- চার-পাঁচ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাননি অনেকে। এছাড়াও টিকাদান কেন্দ্রে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে কাজ করছেন না কেউ, বরং তৈরি করা হচ্ছে বিশৃংখল পরিবেশ।

সরেজমিনে সিলেট নগরীর কয়েকটি টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নানা বয়সী নারী-পুরুষ টিকা দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ৫ নং ওয়ার্ডে টিকা দিতে আসা এক নারী জানান, সকাল সাতটায় এসে তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিয়ে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিনি টিকা দিতে পারেননি। দুপুরেই বলা হচ্ছে টিকা শেষ।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমেদ সিলেটভিউ-কে বলেন, আজ গণটিকাদান কার্যক্রমের শেষদিন মনে করে মানুষজন ভাবছেন আর টিকা দিতে পারবেন না। এ কারনেই অস্থিরতা বেড়েছে।

একই অবস্থা সিলেট নগরীর ৬ নং ওয়ার্ডেও। সেখানকার দুটি কেন্দ্রে স্বল্পসংখ্যক টিকা নিতে ভিড় করেছিলেন প্রায় ৭-৮ শ মানুষ। এদের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি ছিলো উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক।

বাদামবাগিচা এলাকায় বসবাসকারী কর্মজীবী এক নারী সিলেটভিউ-কে বলেন, বাসায় বাচ্চা রেখে নিজের কাজ ফেলে টিকা দিতে আসলাম। কিন্তু চার পাচ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা পাইনি। অথচ আমার পরে অনেকেই এসে টিকা দিয়ে চলে যাচ্ছেন।

স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রতি অভিযোগের আঙ্গুল তুলেন টিকা নিতে আসা মানুষজন। তারা বলেন, তারা ভলান্টিয়ার হয়ে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের টিকা দিয়ে দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে অভিযোগ করায় টিকা নিতে আসা নিম্নবিত্ত মানুষকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

টিকাকেন্দ্রে বেশিরভাগ মানুষের অভিযোগই ছিলো এমন। দুই দিন লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা না পেয়ে চলে যাওয়া এক ব্যক্তি  বলেন, আর টিকাই নেবো না,এরকম অব্যবস্থাপনার মধ্যে উল্টো করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা আছে।

নগরীর সবগুলো টিকা কেন্দ্রের চালচিত্র ছিলো এমনটিই। অপর্যাপ্ত টিকার কারণে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছিলো বিশৃংখলা। সবগুলো কেন্দ্রেই টিকা প্রত্যাশীদের ভীড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে দায়িত্বরত ভলান্টিয়ারদের। মূলত প্রথম দুই দিনের তুলনায় আজ (সোমবার) টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড়ও ছিলো বেশি।

টিকাকেন্দ্রে বিশৃংখলা ও স্বজনপ্রীতির ব্যাপারে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কেয়ামত পর্যন্ত বাংলাদেশে স্বজনপ্রীতি চলবে। তবে মানুষ এখনো এতটা অমানবিক হয়ে যাননি। যাদের প্রয়োজন তারাই টিকা পাচ্ছেন। আগামী ১৪ আগস্ট থেকে আবারো গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে। সবাইকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews