1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

সিলেটে কার তরমুজ কে খায়, ফেলতে হচ্ছে নদীতে

সিলেটের খোঁজখবর
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৪ মে, ২০২২
  • ৫০ বার পঠিত

গত রমজান মাসে সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও তরমুজের দাম ছিল আকাশচুম্বী।দাম এতটাই বেশি ছিলো যে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরাও তরমুজ কেনা থেকে দূরে ছিল।প্রচণ্ড গরম এবং রমজানে তরমুজের দাম সাধ এবং সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় তরমুজ ক্রয় থেকে সরে গিয়েছিলেন তারা।কমদামে তরমুজ বিক্রি করতে যেখানে ছিল ব্যবসায়ীদের অনীহা সেখানে এখন তরমুজ কিনতে রয়েছে ক্রেতাদের অনীহা।তাইতো মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে সেই তরমুজ এখন ব্যবসায়ীদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রমজান শুরুর প্রথম দিকে সিলেটে তরমুজ বিক্রি হয়েছিল কেজি দরে।ব্যবসায়ীরা বিক্রিও করেছিল ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে  কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করলে তারা প্রতিটি তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রি করেন। পুরো রমজানেই ৩০০ টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছিলো যেখানে ৬০০ টাকা সেখানে এই তরমুজ এখন ২০০ টাকা দিয়েও কিনছেন না সাধারণ ক্রেতারা।ফলে তরমুজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আড়তদাররা।

সরেজমিনে শনিবার(১৪ মে) সিলেট নগরীর অন্যতম পাইকারি ফলমার্কেট কদমতলীতে  গিয়েও তার প্রমাণ পাওয়া গেলো।আড়ৎদাররা তরমুজের পসরা সাজিয়ে নিয়ে বসলেও কিনছেন না পাইকাররা।এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে অন্তত কোটি টাকার তরমুজ নষ্ট হওয়ার পথে রয়েছে।অনেক তরমুজে পচন ধরতে শুরু করেছে।আবার নষ্ট হওয়া তরমুজ নিয়েও বিপাকে পড়েছেন আড়তদাররা। কেউ কেউ এ সকল তরমুজ ফেলছেন ডাস্টবিনে আবার কেউ কেউ ফেলে দিচ্ছেন সুরমা নদীতে।

ফল মার্কেটের আড়তদার আখরই মিয়া  বলেন, আমি গত সপ্তাহে প্রায় ৫ লাখ টাকার তরমুজ কিনেছিলাম। পাইকারদের আগ্রহ না থাকায় এখন বেশ লোকসানে পড়েছি।কম দামে অফার দিয়েও বিক্রি করতে পারছিনা এসকল তরমুজ।লোকসানে অনেক পিছ বিক্রি করেছি।

একই আড়তের আরেক ব্যবসায়ী জমির মিয়া বলেন, ঈদের পর থেকেই তরমুজ বিক্রিতে ভাটা পড়েছে।মাত্র দুই সপ্তাহে ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় আমরা বেশ লোকসানে পড়ে গেছি।

নগরীর রিকাবী বাজারের খুচরা ফল ব্যবসায়ী লাহিন মিয়া সিলেট বলেন,ঈদের পরে আমি ৮০ হাজার টাকার তরমুজ কিনেছিলাম।এই তরমুজ কেনার পর থেকে সিলেটে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় তাদের আগ্রহ কমে গিয়েছে তরমুজ ক্রয়ে।আশি হাজার টাকার তরমুজে যেখানে আমার লাভ হওয়ার কথা ছিল কয়েক হাজার টাকা সেখানে আমি প্রায় ৩৫ হাজার টাকা লোকসানে পড়েছি।তিনি তরমুজ বিক্রি করবেন না বলেও জানান তিনি।

সিলেট নগরীর মধুশহীদ এলাকার বাসিন্দা জাহেদ আহমদ রুবেল জানান,পরিবারে চাহিদা থাকায় আমি রমজানে  একটি তরমুজ কিনেছিলাম টাকায়।৪০০ টাকায় যে সাইজের তরমুজ কিনেছিলাম সেটি এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে দেড়শ টাকার মধ্যে।

সিলেট নগরীর আরেক বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,রমজানে অনেক গরম পড়েছিল সিলেটে কিন্তু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে আমার মত অনেকেই তরমুজ কেনা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম।রমজানের গরমে যখন তরমুজ কিনতে পারিনি তখন বৃষ্টির দিনে তরমুজ কেন কিনব।এতে অন্তত সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের শিক্ষা হবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর










x