1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

সিলেটে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে নানা শঙ্কা

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
  • ১৬৪ বার পঠিত
ফাইল ছবি

ডেস্কঃ অধিক ‘করোনা আক্রান্ত’ এলাকা থেকে সিলেটে আসছে কোরবানির গরু। সিলেটের ব্যবসায়ীরা ট্রাকযোগে এসব গরু নিয়ে আসছেন। তবে এখনই এসব পশু বাজারে উঠছে না বলে জানিয়েছেন সিলেটের প্রধান পশুর হাট কাজিরবাজার কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছেন- উত্তরাঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীরা এখনো লকডাউন নিয়ে দুটানার মধ্যে রয়েছেন।

সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না আসার কারণে হাটে পশু তোলা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে- সিলেটের স্থানীয় খামারিরা এবার অনলাইনে পশু বিক্রির উপর বেশি নজর দিয়েছেন।

বিশেষ করে প্রবাসে থাকা ক্রেতারা অনলাইনে ক্রয়ে ঝুঁকেছেন। সিলেটে কোরবানির প্রধান হাট হচ্ছে কাজিবাজার পশুর হাট।

কিন্তু নগরী ও আশপাশ এলাকায় প্রতি বছরই চাহিদা বিবেচনায় কিছু সংখ্যক হাট ইজারা দেওয়া হয়। এবার সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে নগরীর ৮টি স্থানে পশুর হাট চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

করোনা ঝুঁকি মোকাবিলায় পশুর হাট বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এতে জেলা প্রশাসন থেকে পুরোপুরি সমর্থন দেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। কারণ হচ্ছে, সিলেটে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে।

এই অবস্থায় সংক্রমণ ঠেকাতে খুব কম সংখ্যক হাটে পশু বিকিকিনির সুযোগ তৈরি করতে চাচ্ছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি অনলাইনে পশু বিক্রি বাড়াতে তারা উৎসাহিত করছেন। সিটি কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, সিলেট নগরে পশুর হাট নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্বান্ত হয়নি। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

গতকাল এ নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনে বৈঠক হয়েছে। সিলেটের প্রধান পশুর হাট কাজিরবাজার পশুর হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এবার লকডাউনের কারণে সব কিছু এলোমেলো। তবে- তারা প্রস্তুত রয়েছেন। সিলেটের মানুষের পশু ক্রয়ের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে কাজিরবাজার পশুর হাট। সিলেটবাসীর জন্যই হাট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি রয়েছে। গত শুক্রবার বাজারে অনেক পশু উঠেছিল। সিলেটের স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা এসব পশু তুলেছিলেন। করোনা এবং লকডাউনের কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল কম। হাটের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন লোলন জানিয়েছেন, সিলেটের হাটে এখন স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা পশু নিয়ে আসছেন। এখনো উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে সিলেটমুখী হননি। লকডাউন এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এ ছাড়া সরকার থেকেও এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে- কাজিরবাজার পশুর হাট কর্তৃপক্ষ এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। করোনার এই সময়ে হাট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি। সিলেটে করোনা পরিস্থিতি ভালো নয়। দিন দিন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে করোনা। সংক্রমণের হার অর্ধেকের কাছাকাছি। এই অবস্থায় সিলেটের কিছু কিছু ব্যবসায়ী করোনার অতি ঝুঁকিতে থাকা রাজশাহী, খুলনা, কুষ্টিয়া, চাপাই নবাগঞ্জ থেকে পশু নিয়ে আসছেন সিলেটে।

এসব পশু তারা বাজারে না তুলে নিজেদের খামারে রাখছেন। সিলেটে পশু নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছেন সিলেটের অন্যতম খামার ব্যবসায়ী ও সিটি করপোরেশনের সিনিয়র কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান। তিনি বলেন, সিলেটে যে পরিমাণ পশু রয়েছে সেগুলো দিয়ে কোনোভাবেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না। প্রতি বছর যেভাবে পশু আসে সেভাবেই আসতে হবে।

সিলেটের কিছু কিছু ব্যবসায়ী পশু আনলেও উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এখনো সিলেটমুখী হননি। এদিকে- সিলেটের পশুর হাট নিয়ে নতুন করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ- ঈদের দু’দিন আগে থেকে পশুর হাট আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা কেউই আর স্বাস্থ্যবিধি মানেনও না। গতবার লকডাউনের মধ্যেও সিলেটের পশুর হাটে এমনটি ঘটেছে। সিলেটের শুধু কাজিরবাজারই নয়, দু’দিন আগে গোটা নগরীই হয়ে ওঠে পশুর হাট। প্রশাসন কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে তখন আর কিছুই করার থাকে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বারের তুলনায় এবার সিলেটে সংক্রমণ ও মৃত্যু অনেক বেশি। এ কারণে এবার পশুর হাট নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে সেটির বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। নতুবা লকডাউনে যে লাভ হয়েছে সেটি পশুর হাটের মাধ্যমেই শেষ হয়ে যাবে। সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মোজয় দত্ত মানবজমিনকে জানিয়েছেন, কোরবানির পশুর হাট নিয়ে এখনো উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা আসেনি। তবে- অবশ্যই পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। না হলে সিলেটের চলমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে- সিলেটে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা হচ্ছে ৪ লাখ। স্থানীয়ভাবে এখন রয়েছে পৌনে ৬ লাখ পশু। এ কারণে সিলেটে কোরবানির পশুর সংকট হবে না। সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সিলেটজুড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ গরু ও ছাগল রয়েছে। কোনো সংকট হওয়ার কথা না। বিভাগে প্রায় পৌনে ৬ লাখ পশু আছে। তিনি জানান, খামারি বা প্রান্তিক গৃহস্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য অনলাইনে পশু বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রতিটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খামারিদের নাম-নাম্বারসহ তাদের গরু-ছাগলের ছবি অনলাইনে প্রকাশ করছেন। সিলেট জেলা ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক শাকিল জামান জানিয়েছেন, গত বার প্রথমবারের মতো অনলাইনের পশু বিক্রি শুরু হয়েছিল। এবার আগে থেকেই অনলাইনে সিলেটে পশু বিক্রির চাহিদা বেড়েছে। ক্রেতারা অনলাইনে পশু দেখে এরপর খামারে গিয়ে নিজের পছন্দের পশু ক্রয় করছেন। অনেকেই আবার পশু ক্রয় করে খামারেই রেখে আসছেন। ঈদের আগের দিন তিনি খামার থেকে পশু নিয়ে আসতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews