1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

সিলেটে ঘরে ঘরে জর-কাশি, আগ্রহ নেই নমুনা পরীক্ষায়

  • আপডেট সময় : বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১
  • ১৫১ বার পঠিত

সিলেটে গেল কয়দিন থেকে টানা বৃষ্টি, সেই সাথে সিলেটের ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বর সর্দি ও কাশির প্রাদুর্ভাব। কোন কোন এলাকায় জ্বরের উপসর্গ নিয়ে মানুষ মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। সিলেটের চারদিকে জ্বরের এতো বেশি প্রকোপ বাড়লেও অনেকেই মনে করছেন অব্যাহত বৃষ্টির ফলে সামান্য ঠাণ্ডা লাগা কিংবা বৃষ্টির পানিতে ভেজার কারণেই হচ্ছে জ্বর।কিন্তু স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে চলছে করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্ট।বৃষ্টির অজুহাত না দেখিয়ে এখনই জ্বর নিয়ে মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। করাতে হবে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা।   

সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,প্রায় প্রতিটি বাড়িতে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে পরিবারের অনেকেই। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি। আশঙ্কাজনক হারে জ্বরের রোগী বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণের মাঝে করোনাভীতিও ছড়িয়ে পড়ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। করোনা আক্রান্তের ভয়ে অনেকে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে বাড়িতে গোপনে নিজের মতো করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সিলেট শহর ও কয়েকটি উপজেলার ওষুধের দোকানদারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথার ওষুধ বিক্রি হয়েছে স্বাভাবিকের চাইতে কয়েক গুন বেশি। এসব রোগের ওষুধ সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। নগরীর বন্দরবাজারের লালদীঘিরপাড়ের আল হেরা ফার্মেসির মালিক ওয়ারিছ আলী সিলেটভিউকে জানান, গেল ১৫ দিন থেকে প্রচুর পরিমাণে প্যারাসিটামল বিক্রি হচ্ছে। এক কথায় ‘আনলিমিটেড’।এছাড়া প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ নাপা ও নাপা এক্সট্রা গত ১৫ দিন থেকে সাপ্লাই বন্ধ রয়েছে। মার্কেটে পাওয়াই যাচ্ছে না।

সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গেল ২৪ ঘন্টায় সিলেট বিভাগে করোনা ভাইরাস কেড়ে নিয়েছে আরও ৩ জনের প্রাণ। যাদের ২ জন সিলেটের ও একজন সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। একই সময়ে সিলেটের চারটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ২৬২ জন। তন্মধ্যে শুধু সিলেট জেলারই রয়েছেন ১৫৩ জন।বাকিদের মধ্যে হবিগঞ্জের ৩১ জন, সুনামগঞ্জের ২৭ জন, মৌলভীবাজারের ২৫ জন ও ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ২৬ জন।

এদিকে সিলেটে করোনা চিকিৎসার ডেডিকেটেড শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ১৬টি আইসিইউ বেডের মধ্যে কোন বেড খালি হচ্ছে না। একটি আইসিইউ বেড খালি হলেই আরেকজন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। ওই হাসপাতালের করোনা চিকিৎসার সাধারণ বেডও প্রায় পরিপূর্ণ। সবমিলিয়ে সিলেটে করোনা ভাইরাস যে ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে তারই জানান দিচ্ছে গেল কয়েদিনের প্রাপ্ত তথ্যে।

অন্যদিকে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় জ্বরের তীব্র প্রকোপ দেখা দিলেও অনেকেই করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। তাদের মতে জ্বর একটি স্বাভাবিক অসুখ। ফার্মেসি থেকে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ কিংবা এন্টিবায়োটিক সেবন করছেন তারা। জ্বর নিয়ে অনেকেই মারাও যাচ্ছেন। গেল শনিবার সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের এক নারী প্রায় ১৫ দিন জ্বর থাকার পর মারা গেছেন। মারা যাওয়া ওই নারীর ছেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জ্বর থাকাকালীন সময়েই ফার্মেসি থেকে প্রথমে বেশ কিছু প্যারাসিটামল সেবন করেয়েছেন তার মা-কে। পরবর্তীতে এন্টিবায়োটিকও সেবন করিয়েছেন। সর্বশেষ গেল শনিবার তিনি মারা যান। নমুনা পরীক্ষা না করায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া অনেকের তথ্য সরকারি হিসাবেও আসছে না।

জকিগঞ্জ উপজেলা  স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. খালেদ আহমদ সিলেটভিউকে জানান, বর্তমানে প্রতিদিনই জ্বর নিয়ে অনেকে হাসপাতালের আউটডোরে আসছেন। করোনার নমুনা দিতে মানুষের অনীহা থাকায় উপজেলায় করোনা রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করা যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।তারপরও প্রতিদিন অসংখ্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সিলেটে পাঠাচ্ছেন বলে জানান ডা. খালেদ।

সিলেট ওসমানী হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় সিলেটভিউকে বলেন, হাসপাতালে অনেক জ্বরের রোগী আমরা পাচ্ছি। এটি ভাইরাল জ্বর হতে পারে। তারপরও যেহেতু দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে সেই হিসেবে অবহেলা না করে রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করা একান্ত জরুরি।পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যাবে ভাইরাল জ্বর না-কি করোনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews