1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৪:১৯ অপরাহ্ন

সিলেটে বেপরোয়া ‘ইয়াবা’ হেলাল

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৯ মে, ২০২১
  • ২২৯ বার পঠিত

সিলেটের খোজখবর ডেস্কঃ দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে আবারো ঘটেছে নির্মমতা। কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও একাধিক মাদক মামলার আসামি হেলাল উদ্দিন ও তার সহযোগীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে একই পরিবারের ৫ জনকে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানায় হামলার কারণ হিসেবে ‘মাদক বিক্রির প্রতিবাদ’ উল্লেখ করে এজাহার দাখিল করলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে ‘পূর্ব শত্রুতার’ জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে উল্লেখ করে নির্যাতনের শিকার রফিক মিয়ার পরিবারের মামলা নিয়েছে। ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে বৃহস্পতিবার পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন মামলার বাদী রফিক মিয়া। এদিকে, ঘটনার চারদিন অতিবাহিত হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। শহরতলীর লালাবাজারের পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন। বাড়ি লালাবাজারের পার্শ্ববর্তী ভালকি বিলপাড় গ্রামে।

তার গোটা পরিবারই মাদকের সঙ্গে জড়িত। সন্ধ্যা নামলেই তার মাদক আস্তানায় ভিড় জমে ইয়াবাসেবীদের। এ নিয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তারা জানিয়েছেন, গত দু’বছরে দুইবার মাদক বিক্রি বন্ধ করতে এলাকার লোকজন বৈঠক করেছিলেন। তার পিতা মছব্বির মিয়াসহ স্বজনদের ডেকে এনে সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল। এতেও কোনো কাজ হয়নি। বরং গ্রামের ভেতরে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে আসা ইয়াবাসেবীদের ভিড় লেগেই আছে। সাম্প্রতিক সময়ে হেলাল মিয়ার মাদকের আড়তে চোখ পড়েছে পুলিশের। এ কারণে কয়েক দফা অভিযান চালালে হেলাল তারই চাচাতো ভাই ব্যবসায়ী রফিক মিয়ার বসতঘরকে ইয়াবা রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। তার এই প্রস্তাবে রাজি হননি রফিক মিয়া। বরং ইয়াবা বিক্রি ছেড়ে দিতে তিনি হেলাল উদ্দিনকে নিষেধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয় হেলাল ও তার পরিবার। মামলার বাদী রফিক উদ্দিন জানিয়েছেন, ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ করায় গত সোমবার বিকালে হেলাল ও তার সহযোগী নুর ইসলাম, বেলাল, মিসবাহ, দিলাল, ফয়জুলসহ কয়েকজন তার বাড়িতে এসে অকথ্য গালিগালাজ করে। এ সময় তার ভাই সুমন মিয়া গালিগালাজ শুনে ঘর থেকে বাইরে বের হলে হেলাল ও তার সহযোগীরা দা, রামদা দিয়ে সুমনের উপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তার অপর ভাই সানুর মিয়া, ভাগ্‌নি লিপি বেগম, মনি বেগম, ভাগিনা আলী রাজ ও বোন হাওয়া বেগম এগিয়ে এলে তাদেরকেও কোপানো হয় এবং লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তাদের মারধরে গুরুতর আহত অবস্থায় ৫ জনকেই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে, ঘটনার পর রফিক মিয়া বাদী হয়ে ঘটনার দিনই হেলাল উদ্দিনসহ ৫ জনকে আসামি করে থানায় এজাহার দাখিল করেন। ওই এজাহারে তিনি ‘মাদক ব্যবসায় বাধা’ দেয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করলে পুলিশ সেই এজাহার গ্রহণ করেনি। এজাহার পাল্টিয়ে ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ রফিক মিয়া বৃহস্পতিবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ তিনি জানান, মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় ইয়াবা সম্রাট হেলাল উদ্দিন ও তার সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের কয়েকজনকে গুরুতর আহত করেছে। ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার হয়নি হেলাল ও সহযোগীরা। তারা পাল্টা মামলা দিয়ে তাকে হেনস্থা করতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। এ কারণে দ্রুত হেলালসহ তার মাদক বিক্রির সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কমিশনারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই লিটন চন্দ্র দত্ত জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ এরই মধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে পুলিশ অভিযানে রয়েছে। দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ সব সময় মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews