1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

সিলেটে হঠাৎ ছিঁড়ে পড়লো ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইন, অল্পের জন্য রক্ষা!

সিলেটের খোঁজখবর
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২২
  • ৯৬ বার পঠিত

মসজিদে চলছে এশার নামাজ। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে তারাবিহ। মসজিদের দিকে ছুটছেন মুসল্লিরা। ঠিক এমন সময় ৩৩ কেভি (৩৩ হাজার বোল্ট) বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ছিঁড়ে পড়ে গেলো রাস্তায়।  

মুহুর্তেই ধরে যায় আগুন এবং সে আগুন ছড়াতে থাকে। পথচারী ও স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বিদ্যুৎ বিভাগ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে। তবে ফায়ার সার্ভিসের টিম আসার আগেই বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় নিভে যায় আগুন। তাই ঘটেনি কোনো হতাহতের ঘটনা বা বড় দুর্ঘটনা।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে সিলেট নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড এলাকার উত্তর কাজীটুলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, নগরীর উত্তর কাজীটুলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে রাত সোয়া ৮টার দিকে হঠাৎ করে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। ছিড়ে যাওয়া লাইনে এসময় স্পার্ক করে চারদিকে আগুনের শিখা দেখা যায়। এসময় স্থানীয় মসজিদের দিকে মুসল্লিরা যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসা-বাড়ির মানুষজনও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন স্থানীয়রা। বিদ্যুৎ বিভাগ এসময় সংযোগ বন্ধ করে দিলে কিছুক্ষণ পরে নিভে যায় আগুন।

এ দুর্ঘটনার পর নগরীর আম্বরখানা, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, উত্তর কাজিটুলা, শাহী ঈদগাহসহ বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। ওই লাইন মেরামত কাজ শেষে রাত পৌনে ১২টার দিকে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট এবং কোতোয়ালি থানার এয়ারপোর্ট থানাধীন আম্বরখানা ফাঁড়ির একদল পুলিশ। মেরামত কাজের পুরো সময় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করেন।

এদিকে, এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও এমন দুর্ঘটনায় বড় ক্ষতি হতে পারতো জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন- বৃষ্টির দিন হলে বড় দুর্ঘটনা- এমনকি প্রানহানির ঘটনাও ঘটতে পারতো। অথবা লাইন ছিড়ে সরাসরি কারো উপরে পড়লে প্রাণহানির শঙ্কা ছিলো।

৩৩ হাজার ভোল্টের লাইন এভাবে খোলা রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।  তারা বলছেন- এটি বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনা এবং মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা।

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও অন্তরঙ্গ সমাজকল্যাণ সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক- স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক মিসবাহ উদ্দীন আহমদ সিলেটভিউ-কে বলেন, এই লাইনের নিচে আগে সেফটি নেট ছিলো। নতুন করে লাগানোর পর আর নেট রাখা হয়নি। ফলে এতে বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।

দুর্ঘটনা এড়াতে ওই লাইনে দ্রুত নেট লাগানোর দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক মিসবাহসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয়-বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই আরেফিন বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটভিউ-কে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মানুষ দুর্ঘটনাস্থলে যায় এবং দ্রুত কাজ করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করে।

খোলা লাইনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা দ্রুত জায়গাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।




Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর










x