1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন

হাজার কোটি টাকার উন্নয়নে ও জলাবদ্ধতায় সিলেট নগরী!

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১
  • ১৪৯ বার পঠিত
ফাইল ছবি

শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে খাল ছড়া উদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার উন্নয়ন কাজ করা সত্ত্বে জলাবদ্ধতামুক্ত হয়নি নগরী। নগরজুড়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও দুই এক ঘন্টার বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হওয়ায় এসব উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
চলছে আষাঢ় মাস, বৃষ্টির মৌসুম। অল্প কিংবা মাঝারি বর্ষণে তলিয়ে যাচ্ছে নগরীর বেশ কয়েকটি প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা।
গত কয়েক বছরের তুলনায় সিলেটে এবার কম বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বৃষ্টিরপাতের পরিমাণ কম, নদীর পানি বিপদ সীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবুও অল্পসময়ের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।
২/১ ঘন্টার বৃষ্টিতে ড্রেনের পানি উপচে রাস্তাঘাট তলিয়ে যায় এমন কি বাসাবাড়ির আঙিনায় পানি উঠে যায়। বৃষ্টি থামার পরে পানি জমে থাকে বেশ কিছুক্ষণ। জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। এই দুর্ভোগের জন্য সিসিকের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন ভুক্তভোগীরা।
গত কয়েক বছরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার ছড়াখাল উদ্ধার ও সাড়ে ৪শ’ কিলোমিটার ড্রেনের সংস্কার উন্নয়ন কাজ হলেও কেন অল্প সময়ের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এমন প্রশ্ন অনেকের।
রোববার থেমে থেমে বৃষ্টি হয় সারাদিন। বিকালের বৃষ্টিতে ভাতালিয়া, বিলপার এলাকার সড়ক ও বাসাবাড়ির আঙ্গিনায় পানি জমে থাকতে দেখাযায়। রাতের বৃষ্টিতে নগরীর জল্লারপার, জামতলা সুবিদবাজার, ভাতালিয়া, বিলপার, কুয়ারপার, ছড়ারপার, আম্বরখানা, পাঠানটুলা, উপশহর, তেররতন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখাদেয়। নগরীর উপশহরের বাসিন্দা রফিক জানান, বিকালের ১ ঘন্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বৃষ্টির পানির সংগে ড্রেনের নোংরা পানি উপচে সড়কে উঠে যায়। এসময় বাসাবাড়ির আঙিনায় পানি উঠে যায়। বৃষ্টি থামার পর অনেকক্ষণ আটকে থাকে সেই পানি। ১ ঘন্টার বৃষ্টিতে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আরো বেশি বৃষ্টি হলে তো বাসাবাড়িতে ঠেকাই মুশকিল হবে।
আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা তুহিন আহমদ জানান, রোববার রাতের বৃষ্টিতে ড্রেনের পানি উপচে বাসাবাড়িতে পানি উঠে যায়। নোংরা ময়লা পানিতে ঘরের জিনিসপত্র ভিজে একাকার হয়ে যায়। সিসিকের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দৈন্যদশার জন্য এই দুর্ভোগ। কয়েক বছরধরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ছড়া খাল ও ড্রেন সংস্কার করে কি লাভ হলো। যদি ২/১ ঘন্টার বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট বাসাবাড়ি তলিয়ে যায়।
এব্যাপানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান  বলেন, সিসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করছে। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানে ড্রেনে ময়লা আবর্জনা ফেলে ড্রেন ভরাট হয়ে যায়। অপচনশীল ময়লা আবর্জনা ড্রেনে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। নগরবাসীকে এব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এছাড়া, ড্রেনের ছিদ্র ও মুখগুলো ছোট হওয়ায় টানা বৃষ্টি হলে পানি নামতে সময় লাগে। ড্রেনের ছিদ্র বাড়িয়ে দেয়া হবে যাতে তাড়াতাড়ি পানি নেমে যায়।
সিলেট আবহাওয়া অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, রোববার সিলেটে বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ১০০ মিলিমিটার। জুনে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮৪১.৫০ মিলিমিটার, গতকাল সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬১১ মিলিমিটার। এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, এই কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়লেও নদীর পানি বিপৎসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদীর পানি বাড়ছে। আষাঢ় মাসের শেষের দিকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
পাউবো’র সোমবার (২৮ জুন) ভোর ৬টার তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের সুরমা নদীর পানি ২ দশমিক ৪৯ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবো’র সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস. এম শহিদুল ইসলাম জানান, নদীর পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বাড়ছে। তাই আষাঢ় মাসের শেষের দিকে বন্যার আশংকা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 sylheter kuj khobor.com
Theme Customized By BreakingNews