1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

ওসমানীনগরে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে হাড় ভেঙ্গে ফেলার হুমকি

সিলেটের খোঁজখবর
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৩ মে, ২০২২
  • ৩৬ বার পঠিত

ডেস্কঃ সিলেটের ওসমানীনগরে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত মসজিদে স্থানীয় মুসল্লীদের নামাজ পড়তে বাধাঁ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মোয়াজ্জিনকে প্রভাব কাটিয়ে ইমাম নিযুক্ত করার পাঁয়তারায় উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নূল হক চৌধুরীর মদদে সিত্র শামিম আহমদসহ উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মচারী স্থানীয় এক মুসল্লীকে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে হাড় ভেঙ্গে ফেলার হুমকিসহ ইউএনওকে দিয়ে জেল জরিমানা করানোর ভয় দেখাচ্ছেন।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বুধবার উপজেলার ইলাশপুর গ্রামের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা কবির আহমদ সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,নবনির্মিত উপজেলা প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন সরকারী তত্বাবধানে স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগীতায় একটি মসজিদ নির্মান পূর্বক তৎকালীন ইউ্এনও মোছা.তাহমিনা আক্তার ইন্টাভিউয়ের মাধ্যমে মাওলানা খন্দকার মসকুর আহমদকে ইমাম হিসাবে নিয়োগ প্রদান করেন। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা রায়হান আহমদ উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নূল হক চৌধুরীর দোহাই দিয়ে জোর লবিংসহ ঝামেলা সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে রায়হান আহমদকে ওই মসজিদের মোয়াজ্জিন হিসাবে নিয়োগ প্রদান করেন ইউএনও।

পরবর্তীতে ইউএনও তাহমিনা আক্তার অন্যত্র বদলি হয়ে গেলে গত বছরের শেষ দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নূল হক চৌধুরী নিজের আস্থাভাজন মোয়াজ্জিন রায়হানকে সরকারী ভাবে ইমাম নিযুক্ত করার পায়তারায় মাওলানা খন্দকার মসকুর আহমদকে ইমামতির চাকরী থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। একজন ইমামকে অবৈধভাবে অব্যাহতি দিয়ে মোয়াজ্জিনকে ইমাম বানানোর বিষয়ে স্থানীয় মুসল্লীরা খুবই ব্যাথিত হন। তারা এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে কোনো সদউত্তর না পাওয়ায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককের স্বরণাপন্ন হলে তারা উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নূল হক চৌধুরীর অফিসে গিয়ে মুসল্লীদের দাবির বিষয়টি উপস্থাপন করলে তিনি বলেন, রায়হানকে আমরা নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করছি।আর বাজেট না থাকায় ইমামকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে বিষয়টি সমাধানের স্বার্থে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রতিমাসে ইমাম সাহেবের সম্মানী নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করবেন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমাম সাহেবের মাসিক সম্মানী বাবত নগদ আরও ৪০ হাজার টাকা প্রদানের আশ্বস্থ করলে এক পর্যায়ে চাপের মুখে উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নূলহক চৌধুরী মাওলানা খন্দকার মসকুর আহমদকে আবারো ইমাম নিযুক্ত করলে ভিতরে ভিতরে তার আস্থাভাজন মোয়াজ্জিন রায়হান আহমদকে ইমাম বানাতে কুটচাল অব্যাহত রাখছেন। যার ধারাবাহিকতায় ইমাম মাওলানা খন্দকার মসকুর আহমদকে অবৈধভাবে অব্যাহতির দেয়া নিয়ে স্থানীয় প্রতীবাদকারী মুসল্লীদের উপজেলা পরিষদের সিত্র শামিম আহমদ,ইউএনও অফিসের অফিস সহকারী সুফিয়ানসহ উপজেলা পরিষদ ও ইউএনও কার্যালয়ে একাধিক কর্মরতদের সম্মন্বয়ে মোয়াজ্জিন রায়হানের নেতৃত্বে স্থানীয় একাধিক নিরিহ মুসল্লীদের হুমকি ধামকিসহ ওই মসজিদে নামাজ আদায়ে নানা প্রতিবন্ধিকতা সৃষ্টি করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নূলহক চৌধুরী ও তার সহযোগিরা।

অভিযোগকারী কবির আহমদ জানান,সম্প্রতি মাওলানা মসকুর আহমদ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা ছুটিতে থাকার সুযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নূলহক চৌধুরী মোয়াজ্জিন রায়হানকে সরকারী ভাবে ইমাম নিয়োগ করে দিয়েছেন বলে তৎকলিন সময়ে প্রতিবাদকারী মুসল্লীদের মসকারী ও নানা ভাবে মসজিদে যেতে নিষেধ করে যাচ্ছেন মোয়াজ্জিন রায়হান। মোয়াজ্জিন রায়হানের দাবি মসজিদটি সরকারী আর তিনি সরকারী ইমাম। এই মসজিদে স্থানীয় মুসল্লীদের আসার ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদের নিষেধ আছে। গত ৮ মে জোহরের নামাজ পরে তিনি মসজিদ থেকে বের হলে ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহকারী সুফিয়ান তাকে বলেন,এ মসজিদে আপনি আর নামাজ পড়তে আসবেন না।এটা স্যারদের নিষেধ আছে। এসময় মসজিদে নামাজ আদায়ে স্যারদের নিষেধের কারন জানতে চাইলে সুফিয়ান উত্তেজিত হয়ে বলেন,এটা সরকারী মসজিদ পাবলিকের নয়। গ্রামের কোনো মুসল্লি আসলে অবস্থা খারাপ হবে। আমি মান সম্মানের ভয়ে কাউকে বিষয়টি না জানালেও পরের দিন ৯ মে আসরের নামাজের জন্য মসজিদে গেলে উপজেলা পরিষদের সিত্র শামিম আহমদ তাঁর কয়েক সহকর্মীদের নিয়ে সুফিয়ান বলার পরও আমি কেন আবারও ওই মসজিদে নামাজ পড়তে গেলাম তার কারন জানতে চান। আমি শামিম সাহেবকে বলি,আল্লাহর ঘর মসজিদে আসতে সুফিয়ান সাহেব কাল আমাকে নিষেধ করলো। আমি ভাবছিলাম বিষয়টি ইউএনও ম্যাডামকে অবগত করব। কিন্তু আজ আপনি একই ভাবে আমাকে নামাজ পড়তে নিষেধ করছেন। আমার এসব কথা শুনে শামিমসহ তাঁর অনান্য সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে বলেন, এটা ইউএনও‘র বিষয় নয়, সরকারী ভাবে নির্মিত এই মসজিদের দেখাশুনার দ্বায়িত্বে আমরা আছি। এখানে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নামাজ পড়বেন অন্য কেউ নয়। এরপর থেকে আপনাকে এখানে নামাজে আসতে দেখলে হাড্ড্-িগুন্ডি ভেঙ্গে ফেলা হবে অথবা ইউএনও স্যারকে দিয়ে জেল জরিমানা করার হুমকি প্রদান পূর্বক আমাকে মসজিদ এলাকা থেকে বের করে দেয় শামিমসহ তাঁর সহযোগিরা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্ধ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্থক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তবে উপজেলা পরিষদের সিত্র শামিম আহমদ অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, মসজিদে নামাজ পড়তে আমি কাউকে নিষেধ করিনি।

ইউএনও নিলিমা রায়হানা বলেন,স্থানীয় মুসল্লীদের নামাজ পড়তে বাধাঁ দেয়া হয়নি।অপ্রতিকর ঘটনা অভিযোগ থাকায় আমাকে অবগত করে শুধুমাত্র একজন মুসল্লীকে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নূল হক চৌধুরী‘র ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।




Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর










x