1. admin@sylheterkujkhobor.com : admin :
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা তাঁতী লীগের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণঃ সিলেট জেলা তাঁতী লীগের কার্যকরী কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিতঃ মিডিয়া বলে না? আমি বলি! আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা তাঁতী লীগের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণঃ হেলিকপ্টারযোগে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটবাসীর দুঃসময়ে পাশে রয়েছেন: হাবিবুর রহমান হাবিব প্রধানমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার, হেলিকপ্টারে ঘুরে দেখবেন বন্যা পরিস্থিতি সিলেট অঞ্চলে বন্যার পানি নেমে যেতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে ডাকাত আতঙ্ক: গুজবকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যার ভয়াবহ রূপ,৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

মহানবীকে কটূক্তি: সব মুখপাত্রের মুখ বন্ধ করল বিজেপি, নীরব মোদি

সিলেটের খোঁজখবর
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০২২
  • ৪৪ বার পঠিত

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দু’জন নেতা মহানবী মোহাম্মদ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর মুসলিম দেশগুলোতে এর বিরুদ্ধে যেভাবে ক্ষোভ বাড়ছে, তার কারণে ভারত সরকার পরিস্থিতি শান্ত করতে কিছু ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। দলের সব মুখপাত্রকে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিজেপি। তবে এতকিছুর পর এখনো চুপ রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিজেপি সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, বিষয়টি যেভাবে ভারতের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক স্তরে কালিমালিপ্ত করেছে, তাতে ওই বিষয়ে ছোট-বড় সব পদাধিকারীকে মুখ খুলতে বারণ করেছে বিজেপি। আপাতত নীরবতাই বর্ম করে সময়ের সঙ্গে বিষয়টি থিতিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় বিজেপি নেতারা।

সোমবারও বেশ কয়েকটি সরকারি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন মোদি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেখানে ভারতের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়ে একেবারেই ‘নীরব’ ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। মুসলিম দেশগুলো ভারতের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী কেন চুপ তা নিয়ে সরব বিরোধীরা।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কথায়, ‘ঘরে ভাঙন ধরায় বর্হিবিশ্বের কাছেও দুর্বল হয়ে পড়েছে ভারত। বিজেপির লজ্জাজনক ধর্মান্ধতা আমাদের ভিতর থেকে দুর্বল করার সঙ্গে বর্হিবিশ্বেও ভাবমূর্তিকে ক্ষতি করেছে।’ প্রশ্ন উঠেছে কেন মুখপাত্রদের বক্তব্য নিয়ে চুপ করে রয়েছেন মোদিসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। নূপুরকে টুইটারে ফলো করেন নরেন্দ্র মোদি, রাজনাথ সিংহের মতো নেতারা। সাসপেন্ড হওয়ার পরও তাকে ফলো করছেন তারা। বিরোধীদের মতে নূপুরকে শাস্তি দেওয়াটা লোকদেখানো মাত্র। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের কথায়, ‘আমার কোনও সন্দেহ নেই, একে (নূপুর) ভবিষ্যতে আবার নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসা হবে।’

তৃণমূল নেতা যশবন্ত সিন্‌হার প্রশ্ন, ‘দলের মুখপাত্রদের করা মন্তব্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত কোথায়? না কি প্রধানমন্ত্রী গোপনে তাদের সমর্থন করছেন!’

বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা যুক্তি, সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে এমন কোনো আইন নেই। দল ইতোমধ্যেই দুই মুখপাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। দল যে সর্ব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং কোনো ধর্মের পূজনীয় ব্যক্তিদের অপমানকে বিজেপি যে প্রশয় দেয় না সেই বিষয়টি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে। অবস্থান স্পষ্ট করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিজেপি মুখপাত্রদের বক্তব্যের সঙ্গে সরকার একমত নয়। মুখপাত্রদের বক্তব্য তাদের একান্তই নিজস্ব। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজেপি নেতৃত্ব ঘরোয়াভাবে স্বীকার করেছেন একের পর এক মুসলিম দেশ নূপুরের মন্তব্য নিয়ে সরব হওয়ায় রীতিমতো অস্বস্তিতে সরকার। কারণ, দল জানে দেশের বৃহত্তর মুসলিম সমাজের কাছে এখনও অচ্ছুৎ বিজেপি। সুতরাং বিষয়টি যতক্ষণ দেশের গণ্ডির মধ্যে ছিল, ততক্ষণ ওই বিতর্ক থেকে আখেরে মেরুকরণের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছিলেন বিজেপি নেতারা। তাই প্রথম দিকে নূপুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরে থাক, উল্টো ওই মুখপাত্র দাবি করেন, ওই বিতর্কিত মন্তব্যের পরও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তার পাশে রয়েছেন। সেজন্য দলীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন নূপুর।

কিন্তু মুসলিম দেশগুলো এক জোটে মুখ খোলায় দুই মুখপাত্রের থেকে দূরত্ব তৈরি করে নূপুরকে সাসপেন্ড ও আর এক মুখপাত্র নবীন জিন্দলকে বহিষ্কার করা হয়। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম বলেন, ‘ঘরোয়া সমালোচনায় বিজেপির বিন্দুমাত্র হেলদোল ছিল না। উল্টে প্রশয়ই দেওয়া হয়েছে। যখন আন্তর্জাতিক স্তরে সমালোচনা শুরু হল, তখন দুই মুখপাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।’

বিজেপি নেতৃত্ব ভেবেছিলেন, মুখপাত্রদের শাস্তি দিলেই বিতর্ক থেমে যাবে। কিন্তু ওই মন্তব্যের জেরে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিস্থিতি যে এভাবে ঘোলাটে হয়ে উঠবে তা ছিল তাদের কল্পনার অতীত।

বিজেপি চাইছে, সময়ই ক্ষতে প্রলেপ দিক। কংগ্রেস নেতৃত্বের পাল্টা অভিযোগ, এই ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘ দিন ধরেই বিজেপি সমাজে ঘৃণার বীজ বপন করছে। যার ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালার কথায়, ‘বিজেপি এত দিন মন্দির-মসজিদ করেছে। শ্মশান-কবরস্থান, ৮০-২০ করেছে। তখন বারণ করা হয়নি। এখন ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মুখপাত্রদের বলি দিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দায় ঝাড়ছেন।’

এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে মুসলিম দেশগুলো। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নাগরিকরা ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশের সুপারমার্কেটগুলো তাদের দোকান থেকে ভারতীয় পণ্য সরিয়ে ফেলেছে। সামাজিক মাধ্যম টুইটারে #বয়কটইন্ডিয়া ট্রেন্ড চালু হয়েছে।

অপরদিকে ভারতের বিজেপি সমর্থকরা পাল্টা কাতার এয়ারওয়েজ বয়কটের ডাক দিয়েছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর










x